নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, গুলশানে ও শোলাকিয়ার ঈদগাহে বোমা হামলা হয়েছে অথচ হেফাজতে ইসলাম এ বিষয় কোনও বক্তব্য দেয় নাই। ইসলাম ধর্মের নামে বদনাম করা হচ্ছে এর জন্য তারা একটা কথাও বলেন নাই। এর জন্য আপনাদের জবাব দিতে হবে।
বুধবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকার নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন একটি সংগঠন হয়েছে হেফাজতে ইসলাম আর নারায়ণগঞ্জে একটি হেফাজতের দল আছে। তারা ইসলামকে রক্ষার নামে আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করছে। কিন্তু, তারা ইসলামকে রক্ষা করার কে? ইসলাম তো শান্তির ধর্ম। ইসলাম আছে থাকবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। এখানে বলা হয় নাই ইসলাম ধর্মের মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহ সারা পৃথিবীর মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে বলেছেন।
জঙ্গিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখনই ইসলামের এ দুশমনদের প্রতিহত না করা গেলে আমাদের দেশ পাকিস্তানের মতো অকার্যকর রাষ্ট্র হয়ে যাবে। ইসলাম এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না। আজ যারা ঈদগাহে বোমা ফাটিয়েছে, পরে তারা মসজিদে ও মাদ্রাসায় বোমা ফাটানো শুরু করবে। যারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গুটি কয়েকজনের জন্য পুরো ইসলাম ধর্মকে আমরা কলঙ্কিত করতে দিতে পারি না।’
আব্দুল হাই আরও বলেন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইমাম ও খতিবদের সম্মানী বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাবো। এছাড়াও তিনি ইমামদের সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে জেলা ও উপজেলার ৬ শতাধিক ইমাম ও খতিবদের সঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে ইসলামের আহবান শীর্ষক ওই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতিপ্রাপ্ত ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন ইমামদের উদ্দেশে বলেন,‘আপনি ইমামতি করতে যাবেন কিন্তু, আপনিও নিরাপদ না। এজন্য প্রতি খুতবার বয়ানে অন্তত ৫ মিনিট জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও মাদকের বিরুদ্ধে বলবেন।’
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ৪৬ বছর আগে হয়েছে। কিন্তু এখনও মানুষ আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করেন। তাদেরকে বিভিন্ন সম্মানজনক পদবিতে ভূষিত করা হয়েছে। যেমন বীরশ্রেষ্ঠ, বীর বিক্রম এরকম নানা উপাধি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ৪৬ বছর পরেও করছে সরকার। এখানেই প্রকৃত সম্মানের পার্থক্য। জঙ্গিরা মরে গেছে। তাদের লাশ মর্গে পড়ে আছে, এখনও তাদের লাশ কেউ নিতে আসেনি। জঙ্গি হলে তাদের পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজন সবার জন্য তা বদনামের। আমরা এ নিয়ে সবাইকে সচেতন করবো।’
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজমের সভাপতিত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরস শায়খ আল্লামা গোলাম মাওলা নকশেবন্দি, জাতীয় খতিব কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম মিঞা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার উপ পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সদরের বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শহীদুল্লাহ, কদমতলী মধ্যপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা কামাল উদ্দীন ফোরকানসহ নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ৬০০ ইমাম ও খতিব।
/টিএন/