রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার রেস্টুরেন্টে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। মালিকরা নেন নি কোনও বাড়তি নিরাপত্তা।
সাহেববাজার এলাকার ‘টপ দ্যাট রেস্টুরেন্ট’র ম্যানেজার জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, কোনও ধরনের বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহণ করেননি তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও নির্দেশনা আসেনি।
‘টু কাপস্ রেস্টুরেন্টে’র ম্যানেজার রবিন আহম্মেদ বলেন, তাদের রেস্টুরেন্টে সিসি ক্যামেরা না থাকলেও তারা কোনও শঙ্কাবোধ করছেন না।
একই কথা বললেন অর্ডাস্ আপ রেন্টুরেন্টের মালিক মোহাম্মদ মাসরুর রহমান। তিনি প্রতিষ্ঠানের বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহণ করেননি।
সাদ্দাম হোসেন নামের এক গ্রাহক বলেন, রাজশাহীতে কোনও ধরনের শঙ্কা মনে করছি না। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছি।
একই মত দিয়ে গ্রাহক রমজান খান বলেন, একটা ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে এতো শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। রাজশাহী শহরে আমরা অনেক নিরাপদ রয়েছি। ভয় পাওয়ার কিছুই নেই।
শিক্ষার্থী প্রমি আখতার বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। বর্তমানে ঢাকার রেস্টুরেন্টগুলোতে যেতে ভয় পায়। তবে রাজশাহীতে সেই ভয় নেই।
এদিকে বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা তীরে অবস্থিত ‘রিভার ভিউ ফুড কর্ণার’র কর্মচারী মোহাম্মদ মামুন বলেন, গুলশানের সন্ত্রাসী ঘটনার প্রভাব আমাদের রেস্টুরেন্টে পড়ে নি। কাস্টমারদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।
‘কফি বার মাল্টিপ্লেক্স’র মালিক ফরহাদ হোসেন সেলিম বলেন, ব্যবসায় সন্ত্রাসী হামলার প্রভাব পড়েনি। সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে।
এমন চিত্র দেখা গেল নগরীতে অবস্থিত ফ্লেবারস্, ফেসফুড, ক্যাফে হট অ্যান্ড কুলসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টেও।
তবে রেস্টুরেন্ট মালিক ও কর্মচারীদের কেউ কেউ বলছেন, তাদের কাস্টমার কিছুটা কমেছে। আবার কেউ বলেছেন, তারা তেমন কোনও পরিবর্তন বুঝতে পারছেন না। অর্থাৎ তারা এখনও নিশ্চিত হয়ে বিষয়টি বলতে পারছেন না যে কাস্টমারের সংখ্যা কমবেশি হয়েছে কিনা।
অন্যদিকে রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে অবস্থিত চিলিস্ ফাস্ট ফুড অ্যান্ড আইসক্রিম পারলারে পরিচালক হামিনুর রহমান টিংকু বলেন, ‘এটা বলবো না যে গুলশানের রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রভাব রাজশাহীতে পড়েনি। একটু তো প্রভাব পড়েছে। কিছু কিছু কাস্টমার এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছিল। আর কাস্টমারের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।’
টিংকু আরও বলেন, ‘আমার রেস্টুরেন্টের সকল স্টাফকে সতর্ক করেছি। রেস্টুরেন্টে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। প্রতিটি কাস্টমারকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও নির্দেশনা আসেনি।’
হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের ভবনে অবস্থিত ‘অহনা রেঁস্তোরা’র ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বলেন, হোটেল নাইসের সঙ্গে আমরা সংযুক্ত তাই তাদের নিরাপত্তা কর্মীরা আমাদের কাজে ব্যবহৃত হয়। মেন গেটে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা পর্যবেক্ষণ করেন। আমরা সম্মিলিতভাবে সজাগ আছি। দেশি অতিথিদের সঙ্গে বিদেশি অতিথিরাও নির্ভয়ে যাতায়াত করছেন।’
ইকবাল হোসেন জানায়, রেস্টুরেন্টে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। এছাড়া বাড়তি নিরাপত্তার জন্য রেস্টুরেন্টে মেটাল ডিটেক্টর স্ক্যানার মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুতই তা স্থাপন করা হবে।
এদিকে নগরীর অলকার মোড়ে অবস্থিত মাস্টার সেফ রেস্টুরেন্টের মালিক এসএম সিহাব উদ্দিন বলেন, ‘গুলশানের ঘটনার পরের দিনই আমি এ বিষয় নিয়ে আমার রেস্টুরেন্টে সভা করি। স্টাফদের সতর্ক নির্দেনা দেওয়া হয়েছে।’
এসএম সিহাব উদ্দিন আরো বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে আমরা কোনও কাস্টমারের সঙ্গে থাকা বড় ধরনের ব্যাগ নিয়ে রেস্টুরেন্টের ভিতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। বিশেষ করে যাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। প্রশাসনের থেকে নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, কোনও কাস্টমারের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাক্ষণিকভাবে পুলিশকে জনাতে।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী উম্মে সাবিহা আখতার তিথি বলেন, ‘নিজেকে কিছুটা নিরাপত্তাহীন বলে মনে হচ্ছে। কখন যে কী ঘটে তা কে জানে? তাই রাজশাহীর মার্কেট ও রেস্টুরেন্টগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার স্বার্থে মেটাল ডিটেক্টর স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করা উচিত।’
এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন,‘নগরীজুড়ে পুলিশি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হোটেল রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার ও নিজ উদ্যেগে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তারা চাইলে নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা, মেটাল ডিটেক্টর স্ক্যানার মেশিন ব্যবহার করতে পারে।
/এসএনএইচ/