দাকোপে লবণসহিষ্ণু পাট চাষে সাফল্য

দাকোপে লবণসহিষ্ণু পাট চাষ পরিদর্শণ করছেন ড. মো. কামাল উদ্দীনখুলনার দাকোপ উপজেলায় আগে লবণসহিঞ্চু আমন ধান চাষ হলেও এখন লবণসহিঞ্চু পাট চাষে সফলতা এসেছে। ফলে এক ফসলি জমি আর পতিত থাকবে না। এখন থেকে আমন ধান ও পাট দুটি ফসলই চাষ হবে। পরীক্ষামূলকভাবে লবণসহিষ্ণু পাট চাষে সফলতা আসায় দাকোপের কৃষকরা এখন উচ্ছ্বসিত।  

বাজুয়া ইউনিয়নের পাট চাষি বাসুদেব মন্ডল জানান, গত এপ্রিলের শুরুতে লবণসহিষ্ণু পাট বপন করেন তিনি। গত ৪ মাসে পাটের বৃদ্ধি ভাল হওয়ায় বাম্পার উৎপাদন প্রত্যাশা করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এত ভাল পাট হবে তা তিনি কল্পনা করতে পারেননি। পাট কাটার পরই আমন ধান লাগানো যাবে। ফলে আগামীতে একই জমিতে দুটি ফসলই চাষ করবেন তিনি।

তবে শুধু বাসুদেবই না লবণসহিঞ্চু জাতের পাট পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা ৫০ জন চাষিও এখন উৎফুল্ল এবং আশাবাদী।

লবণাক্ত অঞ্চলে এক ফসলি জমিতে পাট চাষ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পাটের লবণসহিষ্ণু জাত সি-১২২২১, সি-২৫৯৩, সি-৩৪৭৩ এবং সি-১২০৩৩ উদ্ভাবন করে। যা দাকোপের মাটিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খুলনার সহযোগিতায় দাকোপ উপজেলার পানখালী, দাকোপ, বাজুয়া ও বানীশান্তা ইউনিয়নের ৫০ জন চাষিকে দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে লবণসহিষ্ণু পাটের চাষ করা হয়। পাটের অত্যন্ত সুন্দর ফলন দেখে চাষির মুখে হাসি ফুটেছে। এ জাতের পাট চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দাকোপ উপজেলার অন্যান্য চাষিরাও।

দাকোপ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে লবণসহিষ্ণু জাতের পাট পরীক্ষামূলক চাষ হওয়া জমি শুক্রবার সরাসরি দেখতে আসেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহা-পরিচালক ড. মো. কামাল উদ্দীন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিএসও (প্রজনন) ড. চন্দন কুমার সাহা, প্রকল্প পরিচালক নজরুল ইসলাম, উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মাহমুদ আল হোসেন, সিএসও ড. রনজিত কুমার ঘোষ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাদ্দেক হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার এনামুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমিরন বিশ্বাস, মো. আলাউদ্দীন শেখ ও ইফতেকার হোসেন।

পরিদর্শন শেষে ড. মো. কামাল উদ্দীন বলেন, দাকোপের লবণাক্ত মাটিতে পাটের ফলন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। দাকোপের চাষিরা আগামীতে এ ধরণের পাট চাষ করে অধিক লাভবান হবেন। একই জমিতে পরপর দুটি ফসল লাগাতে পারবেন তারা।

/এসএনএইচ/
আরও পড়ুন- 

যে কারণে অলস পড়ে আছে ৬শ’ কোটি টাকা
সাবেক জঙ্গি বললো, বাংলাদেশে এজেন্ট পাঠিয়েছে আইএস