বৃহস্পতিবার রাতে নীলফামারীর ডিমলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের পূর্বছাতনাই গ্রামে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করতে এসে গ্রেফতার হন তিনি। এ সময় পুলিশ তার কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরসহ বিভিন্ন দফতরের জাল ও ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, সিরাজ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মহেশা মীরবাগ গ্রামের মৃত তাহের আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী যুব উন্নয়ন অফিসের এমএলএসএস পদে কর্মরত।
এই প্রতারক এর আগে নীলফামারী জেলা শহরের শান্তিনগরে এক কলেজ ছাত্রী, নীলফামারীর কলেজ পাড়ুয়া আরেক ছাত্রী এবং রংপুরের বদরগঞ্জে এক হিন্দু মেয়েসহ প্রতারণা করে ৬টি বিয়ে করেন।
ডিমলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তার গ্রামে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করতে আসে সিরাজ। মেয়ে পক্ষের দাওয়াতে অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি বরের পরিচয় জানতে চাইলে সিরাজ প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রাণাধীন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক হিসাবে পরিচয় দেয়। এ সময় পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে সে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি বের করে দেয়। যেখানে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপসের সত্যায়িত করা সই ছিল। পরে বিষয়টি সন্দেহ হলে সিরাজকে আটক করে ডিমলা থানায় খবর দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে প্রতারককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সই ও সিল জাল করার কথা স্বীকার করে।
পুলিশ জানায়, ওই প্রতারকের সঙ্গে আসা অপর দুইজনকেও থানায় আনা হয়। এরা হলো প্রাইভেট কারের চালক রংপুর মহানগরের ক্যান্টনম্যান্ট এলাকার মৃত আজগার আলীর ছেলে সুমন আলী (৩২) ও ঈশ্বরদী শহরের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে দেলওয়ার হোসেন (৪৫)।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা লাভলী জানান, শহরের দুই কলেজ ছাত্রীকে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করার ঘটনায় শান্তিনগরের একটি মেয়ে তার সহযোগিতা চায়। এ সময় তিনি ওই প্রতারকের মোবাইল নম্বরে কল দিলে সে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি নীলফামারী থানায় একটি জিডি করেন।
এদিকে মোবাইল ফোনে ঈশ্বরদী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোরশেদ আহম্মেদ জানান, তার অফিসে গত ৩ মাস আগে সিরাজ নামে একজন এমএলএসএস পদে যোগ দেয়। সে মাত্র ৬ দিন অফিস করে। এরপর বিভিন্ন লোকের পরিচয় দিয়ে ও ফোন করিয়ে প্রতি মাসের বেতন তুলে নেয়।
তিনি আরও জানান, সিরাজ প্রতারণা করে বিভিন্ন স্থানে ৬টি বিয়ে করছে বলে তারা জানতে পারে। তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ডিমলা থানার এসআই সাহবুদ্দিন জানান, সিরাজের আগের ৬ স্ত্রীকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
তিনি আরও জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে ছবি ও ঠিকানার মিল পাওয়া যায়নি। আর সে প্রধানমন্ত্রী দফতর, স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদদফরের যে পরিচয় পত্র দেখিয়েছে সেগুলোও জাল ও ভুয়া।
/এসএনএইচ/
আরও পড়ুন-
যে কারণে অলস পড়ে আছে ৬শ’ কোটি টাকা
সাবেক জঙ্গি বললো, বাংলাদেশে এজেন্ট পাঠিয়েছে আইএস