রাগীব আলী ছাড়াও অন্য যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে-তারা হলেন তারাপুর চা বাগানের বর্তমান সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্ত, দেওয়ান মোস্তাক মজিদ, রাগীব আলীর পুত্র আবদুল হাই, জামাতা আবদুল কাদির ও মেয়ে রোজিনা কাদির। এর মধ্যে রাগীব আলীর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন মৃত্যুবরণ করায় চার্জশিট থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১০ জুলাই সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরো’র আদালতে চার্জশিট দুটি দাখিল করে। দুটি মামলার মধ্যে একটিতে রাগীব আলীসহ ৬ জন এবং অপর মামলায় রাগীব আলী ও তার পুত্র আব্দুল হাইকে অভিযুক্ত করা হয়। আজ মঙ্গলবার চার্জশিটের ওপর শুনানিকালে রাগীব আলীসহ অভিযুক্ত সকল আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পিপি মাহফুজুর রহমান।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেট কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা ১১৭ নম্বর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই’র এসআই দিলীপ কুমার নাথ। ১০ জুলাই দাখিল করা এই মামলার চার্জশিট নম্বর হল ১৩১। এতে ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রাগীব আলীর বিরুদ্ধে অপর মামলাটি দায়ের হয়েছিল ২০০৫ সালের ২ নভেম্বর সিলেটের কোতোয়ালি থানায়। মামলা নম্বর ১২। পিবিআই’র এসআই দেওয়ান আবুল হোসেন মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ১০ জুলাই মামলাটির চার্জশিট দাখিল করেন তিনি। চার্জশিট নম্বর ১৩২। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে রাগীব আলী ও তার পুত্র আবদুল হাইকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত তৎকালীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা-বাগান অবৈধ দখল, বিধি-বহির্ভূতভাবে স্থাপনা নির্মাণের প্রমাণ পায়। পরবর্তীতে সংসদীয় উপকমিটি চা-বাগানে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। এই সুপারিশের পরেপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেট সদর ভূমি কমিশনার এসএম আবদুল হাই বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দুটো মামলা করেন (নম্বর-১১৭ও ১২/২০০৫)। পরবর্তীতে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেন উচ্চ আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তারাপুর চা-বাগান পুনরুদ্ধারের রায় দেন। রায়ে ওই মামলা দুটি সক্রিয় করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের এ নির্দেশনার বিষয়ে গত ১৬ মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতকে অবহিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা দুটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
রাগীব আলী সাউথ ইস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান, লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতাসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত।
এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
সাখাওয়াতের মৃত্যুদণ্ড, বাকি সাতজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড