খবর পেয়ে আজ বুধবার সকালে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। এসব আলামত পরীক্ষার জন্য বোমা বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ দিন দুপুরে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, পুলিশ, প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উৎসুক জনতা সকাল থেকেই মন্দিরে ভিড় করছেন।
এ ব্যাপারে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে কোটালীপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মন্দিরের পাশে বসবাসকারী দেবগ্রাম ঊমাচরন-পূর্ণচরন সার্বজনীন উচ্চ বিদ্যালয়ের হোস্টেলে অবস্থানকারী শিক্ষক সহদেব বিশ্বাস ও হোটেলের ছাত্র সুরঞ্জন বাকচি বলেন, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আমি মন্দিরের কাছে গেলে প্রচুর ধোঁয়া দেখতে পাই। মন্দিরের সামনে কিছু জায়গায় আগুনের ফুলকিও দেখা যায়। স্প্লিন্টারের আঘাতে মন্দিরে প্রবেশের গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গা, অসুর, মহিষ প্রতিমার শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। মন্দিরের টিনের চাল, বারান্দার চালের টিন ও মন্দিরের পেছনের টিনের বেড়ায় অসংখ্য ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। কে বা কারা এবং কেন মন্দিরে এ ককটেল হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তা তারা দেখেননি বলেও মন্তব্য করেছেন।
দেবগ্রামের অতুল প্রসাদ বিশ্বাস বলেন, বিস্ফোরণের পরই ঘটনাস্থলে আসি। তখন মন্দিরের অঙ্গিনাসহ অন্যান্য স্থানে লোহার বলের মতো স্প্লিন্টার ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল।
পাশের দিঘলিয়া গ্রামের শিশির হালদার বলেন, আমাদের বাড়ি মন্দির থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে। আমরা রাতে বাড়ি থেকেই বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছি।
দেবগ্রামের সুপ্রকাস বসু বলেন, আমরা এখানে মুসলমান, হিন্দু ও থ্রিষ্ট্রান সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ন ভাবে সহাবস্থান করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় নাশকতা, ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে দূর্গাপূজাকে আগে পরিকল্পিতভাবে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।
কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ফারুক জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখেছি। আলামত সংগ্রহ করে এনেছি এবং কারা বা কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে।
এলাকায় বিবদমান দুটি গ্রুপ রয়েছে যারা ওই এলাকার একটি স্কুলসহ নানা বিষয়ে নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত। তদন্তের সময় এসব বিষয়ও মাথায় রাখা হবে বলে জানান ওসি।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, শুধু সংবাদ সৃষ্টির জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে আমি ধারণা করছি। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি এলাকাবাসীকে যে কোনও ঘটনা মেকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন-
হোটেলে নাস্তা করতে গিয়েই ধরা খেলো ওবায়দুল
প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্ত জানাতে সময় চেয়েছেন মীর কাসেম
/এফএস/