কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাছাই শেষে বর্তমানে উপজেলায় বৈধ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ জন। আগে এ সংখ্যা ছিল ৮২ জন। তবে ভাতা পেতেন মাত্র ৫১ জন। যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে নতুন করে ৬৩ জন তালিকাভুক্তির আবেদন করলে মাত্র ২ জনকে, লাল মুক্তিবার্তার তালিকায় ৩৯ জনের মধ্যে ৩২ জনকে এবং গেজেটভুক্ত ৪৩ জনের মধ্যে ৫ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়।
তালিকা থেকে বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধারা মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা সংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মুজিব বাহিনী হিসেবে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করি। তালিকা থেকে বাদ পড়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে।’
এদিকে কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর হারতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিন মারা গেছেন। তার মেয়ে আয়শা সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধের সময় বাবার অস্ত্রসহ ছবি নিয়ে ঘুরছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান জানান, ‘এ উপজেলায় গেজেটভুক্ত ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ১২ জনই বাদ পড়েছেন। আপত্তি থাকায় লাল মুক্তিবার্তার ৭ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আবেদনকারী ৬৩ জনের মধ্যে দুই জনকে তারিকাভুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, এখানে যাছাই-বাছাইয়ের তথ্যটি শুধু প্রকাশ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আমাদের হাতে নেই।’
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রুহুল আমিন বাবলু জানান, ‘গত ২১ জানুয়ারি থেকে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হয়। ইতোমধ্যে কাহালু উপজেলায় কাজ শেষ হয়েছে।’
এদিকে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার আবেদন না মঞ্জুর ও বাতিল হওয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছামাদ প্রামাণিক বলেন, ‘আমরা যুদ্ধকালীন কমান্ডার এবিএম শাহজাহান ও এরিয়া কমান্ডার মরহুম অধ্যক্ষ হোসেন আলীর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে দেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু যাচাই বাছাই কমিটি গেজেটভুক্ত ১৯ জনকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করলো তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বাদ পড়াদের মধ্যে অনেকে দুস্থ্য ও অসহায়। তাই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী, খয়বর রহমান, প্রফুল্ল চন্দ্র, মুনছুর রহমান প্রমুখ।
/এসএনএইচ/