ধর্ষিতা গৃহবধূ জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তার বাবার বাড়ির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সেই বিরোধ নিয়ে নাগবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে সালিসি বৈঠক রয়েছে বলে তাকে জানায় মনির নামে এক ব্যক্তি। মনির তাকে জানায়, তার মা তাকে বৈঠকের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যেতে বলেছেন। মনিরের সঙ্গেই ওই নারী মোটরসাইকেলে করে রওনা দেন।
মনির তাকে ইউনিয়ন পরিষদে না নিয়ে অ্যালেঙ্গা রিসোর্টে নিয়ে যায়। সেখানে ছিলেন মিল্টন সিদ্দিকী। পরে মিল্টন তাকে রিসোর্টের একটি কক্ষে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রিসোর্টের সামনের ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ফেলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
পরে ওই নারীকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করেন তার পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক রেহেনা পারভীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভিকটিমের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে তার ডাক্তারি পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
ধর্ষিতার মা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জমি নিয়ে সালিস-মীমাংসা করার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ধর্ষিতার মায়ের ফোন পেয়ে হাসপাতালে যান নাগবাড়ী ইউনিয়নের এক সদস্য আ. হালিম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিল্টন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে নারীঘটিত অভিযোগ এই প্রথম নয়। নারীঘটিত কেলেঙ্কারির জন্য এর আগেও তার বিরুদ্ধে সালিস হয়েছে।’
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মিল্টন সিদ্দিকী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অসত্য একটি অভিযোগ। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমি একজন জনপ্রতিনিধি। আমার বিরুদ্ধে এমন খবর রটেছে শুনে আমি বিস্মিত।’
কালিহাতী থানার ওসি খন্দকার আখেরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টাঙ্গাইল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূর অভিযোগপত্র নেওয়া হয়েছে। রাতেই এই ব্যাপারে থানায় মনির ও মিল্টন সিদ্দিকীকে আসামি করে একটি নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।’ মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন-
টাঙ্গাইলে জেএমবি সদস্য গ্রেফতার
নারায়ণগঞ্জে গাছ কেটে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরি
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিক্ষিকার দুই হাত ভেঙে দিলো বখাটে
/টিআর/