দিনাজপুরের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ, পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই), কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, র্যাব, সিআইডি ও পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব ইউনিটের তদন্তে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য বেরিয়ে আসেনি। ঘটনার তদন্তে গঠিত পুলিশের ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটিও রহস্য উদঘাটনের মতো কোনও তথ্য বের করতে পারেনি।
পুলিশের ওিই তদন্ত কমিটির প্রধান দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহফুজ জামান আশরাফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির বাইরেও পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ আলাদা আলাদাভাবে তদন্ত করছে। কিছু তথ্যের ভিত্তিতে তারা তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অচিরেই এই জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম বলেন, ‘হত্যার ঘটনায় যোগসূত্র খুঁজতে কুড়িগ্রাম থেকে আরেক পীর এসহাক আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছি। পাশাপাশি বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা এলাকার কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফের খাদেম সাইদুর রহমান ও সহযোগী সমর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কিছু জানতে পারিনি।’ এসব ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখযোগ্য কিছু না পাওয়া গেলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাত ৮টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা নামক এলাকায় কথিত পীর ফরহাদ হাসান চৌধুরী ও তার পালিত মেয়ে রুপালী বেগমকে গুলি করে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়। পারুলের বুকে গুলি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চিহ্ন ছিল। ফরহাদ হোসেনের লাশ পাওয়া যায় তার শোওয়ার ঘরের বিছানায় এবং পারুলের লাশ পাওয়া যায় রান্নাঘরের মেঝেতে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) রাতে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন ফরহাদ হোসেনের মেয়ে ফাতেমা জাহান এমি।
নিহত ফরহাদ হোসেন চৌধুরী দিনাজপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি। তার বাড়ি দৌলা গ্রামে। নিহত রুপালী বেগম মাধবপুর গ্রামের হসের আলীর মেয়ে এবং ফরহাদ হাসান চৌধুরীর পালিত মেয়ে। এলাকাবাসী জানান, ২০১০ সালে কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন ফরহাদ হোসেন। এরপর তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসেন। তিনি নিজেকে পীর বলে দাবি করতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন-
মুসার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে সংগঠিত হচ্ছে জঙ্গিরা!
কুমিল্লায় মাটি চাপা পড়ে দুই নির্মাণ শ্রমিক নিহত
/টিআর/