বুলবুল বলেন, ‘আদালতের রায়কে অবমাননা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে যে রায় হয়েছে, সে রায়ে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করার এখতিয়ার তারা রাখে না।’
বুলবুল আরও বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধি বাদ দিয়ে যখন একজন কাউন্সিলরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখানে রাজনৈতিক অন্তঃসারশুন্য একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।’
তিনি বলেন, ‘আজকে সরকারি এই সেবা প্রতিষ্ঠানকে (রাসিককে) চোরের আখড়া বানিয়ে ফেলা হয়েছে। যেই কাউন্সিলর দায়িত্বে ছিলেন, আমি বসেই দেখতে পেয়েছি তার নামে দুর্নীতির অভিযোগ। গত দুই বছরে সিটি করপোরেশনের সেবা থেকে জনগণ বঞ্চিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সমর্থিত যেসব কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদেরকে গতকাল (রবিবার) দেখা যায়নি। অনেকে আবার অর্থের লোভে বর্তমান সরকারের মদদে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আগামীতে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘আইনের মধ্য দিয়েই আমাকে বরখাস্তের আদেশ সর্বোচ্চ আদালতে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তাই আমার বিরুদ্ধে রাজশাহী শহরে যদি রাজনৈতিক বা সামাজিক কারণে ৫০টিও মামলা হয়, তার জন্য আমাকে বরখাস্ত করা যাবে না। কিন্তু সরকার আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারও বরখাস্তের আদেশ দিয়েছে।’
প্রসঙ্গত, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ২০১৩ সালের ১৫ জুন রাসিক নির্বাচনে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২১ জুলাই তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই বছরের ৬ অক্টোরর প্রথম সাধারণ সভা করেন। ২০১৮ সালের ১৫ জুন তার পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই নাশকতার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায়, ২০১৫ সালের ৭ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সাময়িকভাবে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ নিয়ে আইনি লড়াই শেষে রবিবার (২ এপ্রিল) নগরভবনে ফিরে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি গ্রহণের সময় ফের বরখাস্তের চিঠি পান বুলবুল। এবার নাশকতার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করায় তাকে বরখাস্ত করে মন্ত্রণালয়।
/বিএল/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন: কার্যালয়ে ঢুকেই বরখাস্তের চিঠি পেলেন রাসিক মেয়র বুলবুল