বিএনপি নেতার মানবতাবিরোধী অপরাধের তৃতীয় দফা তদন্ত সম্পন্ন

বগুড়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তবগুড়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মোমিন তালুকদার খোকার ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের তৃতীয় দফা তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার (৪ মে)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি তদন্ত দল গত মঙ্গলবার (২ মে) থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসময় তদন্ত দলের সদস্যরা আদমদীঘির সুদিন, খাড়িপাড় শ্মশানঘাটি ও সান্তাহার রথবাড়ী (জমিদার সুরেন্দ্রনাথের বাড়ি) বধ্যভূমি পরিদর্শন করেন এবং মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সাক্ষাৎকার নেন।
আদমদীঘি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল হামিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপি নেতা খোকা তালুকদারের মানবতাবিরোধী অপরাধের (হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট) তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতান মাহমুদ সীমন ও তদন্ত সংস্থার সদস্য সিনিয়র এএসপি জেডএম আলতাফুর রহমান বগুড়ায় আসেন। এসময় ডেপুটি কমান্ডার আবির উদ্দিন খান, মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত দল মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদমদীঘি থানা রাজাকার কমান্ডার আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকার ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করেন।’
আবদুল হামিদ বলেন, ‘তদন্ত দলের সদস্যরা আদমদীঘির সুদিন, খাড়ি পাড় শ্মশানঘাটি ও সান্তাহার রথবাড়ী বধ্যভূমি পরিদর্শন করেন। আদমদীঘি জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মানবতাবিরোধী অপরাধের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীসহ ২০ জনের সাক্ষ্য নেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খোকার বিরুদ্ধে ১৯৭২ সালের ১ জুন দায়ের করা মামলার (নং-১) জীবিত কয়েকজন সাক্ষী, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্তত ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।’
মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার খান ও অন্যরা জানান, ১৯৭১ সালে বিএনপি নেতা খোকার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে ১৯৭২ সালে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলাটি স্থগিত করে।
তারা আরও জানান, গত ২০০১ সালে ১ ফেব্রুয়ারি ও ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর দুটি জাতীয় দৈনিকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। আদমদীঘির কায়েতপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা সুবিদ আলী ২০১১ সালে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খোকার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে আদমদীঘির থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাহারটি রেকর্ড করেন। অধিকতর তদন্ত ও পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি পাঠানো হয়। এর আগে, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সদস্য সিনিয়র এএসপি জেডএম আলতাফুর রহমান দু’দফা তদন্ত করেছেন। তদন্ত দলের সমন্বয়ক সানাউল হক তদন্ত কাজ তদারকি করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ থেকে ৪ মে পর্যন্ত তৃতীয় দফার তদন্ত চলে।
আবদুল হামিদ বলেন, ‘খোকার মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করতে ট্রাইব্যুনালের দু’জন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বগুড়া এসেছিলেন। সাক্ষীরা তদন্ত দলকে আশানুরূপ তথ্য-উপাত্ত দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা জানান, যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ১৭ বছর। তিনি কোনও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এসব করাচ্ছে।’ কয়েক দফা তদন্ত করলেও তদন্ত দল তার যুদ্ধাপরাধের কোনও তথ্য-প্রমাণ পায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন-

বেরোবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে সহকর্মীর মানহানির মামলা

দেশ চালাচ্ছে পর্তুগিজ জলদস্যুরা: আলাল

/টিআর/