রাজশাহীতে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষকসহ চারজনকে মারধরের অভিযোগ

রাজশাহী

রাজশাহীতে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) একেএম নাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক কলেজ শিক্ষকসহ চারজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ জুন) দুপুরে নগরীর বর্ণালীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে একেএম নাহিদুল ইসলাম মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন।

বঙ্গবন্ধু কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক সাদিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে হড়গ্রাম নতুনপাড়া থেকে সিটি করপোরেশনের ২নম্বর ওয়ার্ডের সচিব ফখরুদ্দিন আলী আহমেদের মোটরসাইকেলে চড়ে কলেজের উদ্দেশে রওয়ানা দেন তিনি। মোটরসাইকেলটি নগরীর বন্ধগেট-বর্ণালী মোড়ের মাঝামাঝি পৌঁছালে পেছন থেকে একটি গাড়ি তাদের লক্ষ্য করে হর্ন বাজানো শুরু করে। কিন্তু সামনে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা থাকায় সাইড দিতে ২-৩ মিনিট দেরি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গাড়ি থেকে নেমেই মোটরসাইকেলের চালক ফখরুদ্দিনকে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করেন উপ-পুলিশ কমিশনার নাহিদ। এরপরই নাহিদ মোটরসাইকেলে থাকায় তাকেও (সাদিকুল ইসলাম) এলোপাথাড়ি মারধর করেন। এসময় দুইজন নিজেদের পরিচয় দিলে নাহিদ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন ও পেটাতে থাকেন।

তিনি আরও জানান, এসময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কর নির্ধারক এসএম মহিউদ্দিন মৃদুল এগিয়ে এসে ঘটনা জানার চেষ্টা করলে তাকেও পেটান নাহিদ। এরপর ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে নাহিদ তাকেও এলোপাথাড়ি চড় থাপ্পড় মারেন। এতে গোটা এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ওই এলাকা ঘিরে ফেলে।

সাদিকুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় রাজশাহী বঙ্গবন্ধু কলেজের উপাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির রাজশাহী জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরে তিনি তা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডবলু সরকার, জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্টের আহবায়ক শফিকুর রহমান বাদশা, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অধ্যক্ষ রাজকুমার সরকারের নেতৃত্বে রাজশাহী আরএমপি সদর দফতরে পুলিশ কমিশনার সফিকুল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাজীবসহ অনেকেই।

মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘এভাবে একজন শিক্ষককে মারধর করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন উপ-পুলিশ কমিশনার নাহিদুল ইসলামে। তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না নিলে শিক্ষক সমিতি তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।’

ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলাম বর্ণালীর মোড়ের দিকে। এসময় উপ-পুলিশ কমিশনার নাহিদুল ইসলামের গাড়ির সামনে পড়লে কোনও কিছু না জেনেই তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকে লাঞ্ছিত করেন। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এমন আচরণ দুঃখজনক।’

একেএম নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাফিক আইন অমান্য করে এক মোটরসাইকেলে চড়ে তিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী যাচ্ছিলেন। তাই আমার উপস্থিতিতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। আর শিক্ষক সাদিকুল ইসলামও অন্য একটি মোটরসাইকেলে দু’জন মিলে যাচ্ছিলেন। তাদের কাগজপত্র তল্লাশি করা হয়েছে। তবে কাউকেই মারধর করা হয়নি। অপরাধ ঢাকতেই তারা মনগড়া কাহিনী সাজাচ্ছেন।’

এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশ কমিশনার সফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষক নেতারা এসে মৌখিকভাবে অভিযোগ করে গেছেন। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এমএ/