সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আহমেদ সজীব, সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ আল হাসান লাবন ও আইন বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়সহ নেতাকর্মীরা দেশ ট্রাভেলস-এর বাস ভাঙচুর করেন। এই ঘটনার ছবি তোলায় সাংবাদিক আরাফাতের ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগ নেতারা। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা আরাফাতকে মারধর করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাংবাদিক আরাফাতকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হাসান আদিব ও সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজ রনি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আরাফাত রাহমানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হুমকি। আমরা এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কায়কোবাদ খান ও সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মিঠু স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রাবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত আরাফাত রাহমান একজন সংবাদকর্মী। তাকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হামলা করার ঘটনা গণমাধ্যমের ওপর হামলা বলে মনে করি।’ এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার ও দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
শাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক সরদার আব্বাস আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা বারবার ঘটলেও প্রশাসন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঘটনার ধারাবাহিকতা বহাল রয়েছে।’
এই হামলার হামলায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস)। জাবিসাসের সভাপতি মওদুদ আহম্মেদ সুজন এবং সাধারণ সম্পাদক শরীফুল কবীর শামীম এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিক নেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ইন্ধন ছাড়া কোনও ছাত্রের পক্ষে এই ধরনের হামলার সাহস করা মোটেই সম্ভব নয়। হামলাকারীরা যে দলেরই হোক না কেনও, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাদেরকে বহিষ্কার, প্রচলিত আইনে মামলা ও গ্রেফতার দাবি করছি।
এদিকে, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কায়কোবাদ খান।
/এসএমএ/