তবে সংশ্লিষ্ট জানিয়েছেন, যমুনার পানি বাড়লেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনও আশঙ্কাজনক রূপ নেয়নি। বন্যার প্রকোপ সেভাবে না বাড়লেও জেলা সদরের বাহুকা ও মেছড়া, কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ও মাছুয়াকান্দি এবং চৌহালী উপজেলা সদরের অদূরে খাস কাউলিয়া যমুনার পাড়ে থেমে থেমে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। যমুনার পশ্চিম পাড়ের তীর রক্ষা ক্রমশই অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। এদিকে বাঁধ-পাড় ভাঙন অব্যাহত থাকলেও বরাদ্দ না থাকায় হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) লোকজন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম মঙ্গলবার সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বন্যা কবলিত উপজেলা থেকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে না আসায় এখনও র্পূণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে জেলা সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলায় ৩ থেকে ৪ হাজার পরিবার চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ত্রাণ কার্যক্রমও চালু রাখা হয়েছে।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, ‘কাজিপুরের মাছুয়াকান্দিতে ক্রসবার বাঁধের স্যাংক ভেঙে গেলেও সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ বালির বস্তা নিক্ষেপের জন্য বরাদ্দ তো দূরের কথা, এখনও বোর্ড থেকে অনুমতিই পাইনি। সদর উপজেলার বাহুকা এলাকায়ও থেমে থেমে পাড় ভাঙছে। যমুনার পানি বাড়লেই ভাঙন বাড়ে। আমরাও সব সময় মানসিক চাপে থাকি। তারওপর এমপি-মন্ত্রী কর্মকর্তাদের চাপ তো আছেই।’
জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা বলেন, ‘এখনও সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যা সে ধরনের ভয়বহ রূপ নেয়নি। এখনও অবস্থা আমাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সার্বিক খোঁজ-খবর রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও এরই মধ্যে চৌহালী, বেলকুচি, সদর ও কাজিপুরের বন্যা ও ভাঙন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। ত্রাণ বিতরণও শুরু করেছি। এরই মধ্যে সদরের সয়দাবাদ ও কাজিপুরের শুভগাছায় প্রায় সাড়ে ৫ শতাধিক পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল ও নগদ দু’শ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৪৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও চাহিদা দেওয়া হয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. আরশেদ আলী বলেন, ‘জেলার বন্যা উপদ্রুত এলাকায় প্লাবিত কৃষি জমির তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। মাঠ পর্যায় থেকে এখনও প্রকৃত হিসেব তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।’
/এফএস/
আরও পড়ুন- তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপরে, এখনও পানিবন্দি ১৫ হাজার পরিবার