আগাম ফুটে ঝরে গেছে ফুল, মাদারীপুরে কদমহীন বর্ষা!

জেলা পরিষদের পাশে কদম গাছবর্ষা মানেই যেন কদম ফুল, কদমের সুবাসে মোহনীয় হয়ে ওঠা মৌসুমি বাতাস। ফুটন্ত কদম ছাড়া যেন বর্ষার রূপ খোলে না। আষাঢ়ে বর্ষণের শুরুতে ফোটা কদম ফুল শ্রাবণেও ছড়িয়ে যায় শোভা। সেই কদম ফুলের শোভা থেকে এ বছরে বঞ্চিত হলো মাদারীপুরের বর্ষাকাল। গ্রীষ্মেই ফোটা কদম ঝরে গেছে আষাঢ়ের আগেই। শ্রাবণের শুরুতে এসে তাই গাছে গাছে কেবল ঝুলছে ঝরে যাওয়া কদমের গোটা। পরিবেশবাদীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই হয়তো কদমের নৈসর্গিক সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার এই উদাহরণ।
শহর ঘুরে দেখা গেছে, মাদারীপুর জেলা পরিষদের সামনে, জেলা শিল্পকলা একাডেমির পাশে ও পাঠককান্দি আশ্রমের ভেতরের কদমতলাতেও নেই কদমের সুবাস। মাদারীপুরে র্যা ব-৮ ক্যাম্পের সামনে প্রধান সড়কের পাশেও দাঁড়িয়ে আছে বিশাল একটি কদম গাছ। বর্ষার আগে প্রধান সড়কের পাশে বিশাল ওই গাছটিতে বেশ কদম ফুটেছিল। আষাঢ় আসতে না আসতেই তা রিক্ত হয়ে পড়ে।
র‌্যাব ক্যাম্পের পাশের গাছে কদম ফুল, ঝরে গেছে বর্ষা আসার আগেইমাদারীপুর পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুবল বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বছর আষাঢ়ের আগেই মাদারীপুরের কদম ঝরে গেছে। কৌতূহলীরা আশপাশের জেলাগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখেন, সেখানেও একই অবস্থা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই হয়তো বর্ষা আসার আগেই ঝরে গেছে কদম।’
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সাহিত্যিক বাশার মাহমুদ বলেন, ‘মাদারীপুর শহরেই কয়েক হাজার কদম গাছ আছে। আষাঢ় গেল, শ্রাবণও শুরু হলো। অথচ কোথাও কোনও ফুটন্ত কদম নেই।’
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্র স্বাধীনতা অঙ্গনের পাশে অনেক পুরাতন কদম গাছ আছে। প্রতি বর্ষাতেই এসব গাছে দেখা যায় কদমের সমারোহ। তবে এ বছর বৈশাখে ফুটে জ্যৈষ্ঠেই ঝরে গেছে কদম।’
সারি সারি কদম গাছ, বর্ষাতে নেই ফুলের দেখাগাছটিতে কদম ফুল দেখতে না পেয়ে উদীচী মাদারীপুর জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন এলিন বলেন, ‘আগে বর্ষার অনুষ্ঠানের শোভা বাড়িয়ে দিত এসব গাছের কদম ফুল। এবার তা হয়নি। এটা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলেই আমাদের ধারণা।’
মাদারীপুর রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক নন্দিনী হালদার বলেন, ‘‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’ তো শুধু গান নয়, এটি আবহমান বাংলার চিরায়ত সৌন্দর্য। কিন্তু এবারের আষাঢ়-শ্রাবণে সেই গান আবেদন হারিয়েছে। এ জলধারায় স্নিগ্ধতা নেই, আছে কেবলই রোদন।’

আরও পড়ুন-

শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা: অপেক্ষায় এক লাখ সনদধারী

অননুমোদিত মাদ্রাসাগুলোকে ৩ মাসের মধ্যে অনুমোদন নিতে হবে

/এএইচ/টিআর/