শিক্ষার্থীদের অভিযোগ— বাসের ট্রিপ কামানো, সপ্তাহে দু’দিন ক্যাম্পাস বন্ধ এবং ডাইনিংয়ে খাবারের দাম বাড়ানোসহ বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। তারা বলছেন, যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা উপেক্ষিত হয়েছে। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে— আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান নিয়োগ পান গত ৭ মে। নিয়োগের পর গত দুই মাসে ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। উপাচার্যের এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চারদফা দাবি নিয়ে গত রবিবার (২৩ জুলাই) মাঠে নামেন শিক্ষার্থীরা। আয়োজন করেন মানববন্ধন ও সমাবেশের। এই কর্মসূচিতে হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— বাসের ট্রিপ ও ডাইনিংয়ে খাবারের মান বাড়ানো, সপ্তাহের সাতদিন গ্রন্থাগার খোলা রাখা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানো।
এর আগে গত সোমবার (২৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অসুস্থ থাকায় তার অনুপস্থিতিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
বাসের ট্রিপ ৮ থেকে ৪টি
গত ১৬ জুলাই থেকে ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসের সিডিউলেও পরিবর্তন আনা হয়। যেখানে দিনে আটটি বাসের ট্রিপ ছিল, তা কমিয়ে চারটিতে আনা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ— বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাড়ছে, এ অবস্থায় বাসের ট্রিপ কামানো হচ্ছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে রাতের ট্রিপ না থাকায় তাদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই টিউশনিসহ বিভিন্ন কাজে শহরে যান। কিন্তু রাতের বাস ট্রিপ বন্ধ করায় ক্যাম্পাসে ফিরতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া বাসগুলোতে ঠাসাঠাসি করে, অনেক সময় গেটে ঝুলে যাতায়াত করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে পরিবহন দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার জানা মতে, ট্রিপ কমানোর ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। কারণ, আমি নিয়মিত দাঁড়িয়ে থেকে দেখি কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা। আর ট্রিপ কমানোর সিদ্ধান্ত পরিবহন উপদেষ্টা কমিটিতে নেওয়া হয়েছে। এখানে আমার একক কোনও সিদ্ধান্ত নয়। প্রশাসন আমাকে যদি পরিবর্তন করার নির্দেশনা দেয়, তাহলে সেটা দেখবো।’
ডাইনিং এ খাবার দাম বেড়েছে
ঈদের ছুটির পর ক্যাম্পাস চালু হয় ২৯ জুন থেকে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে হঠাৎ জানতে পারেন, ডাইনিং এ খাবার দাম বাড়ানো হয়েছে। দুপুরে চার টাকা বাড়িয়ে ২৪ টাকা ও রাতে দুই টাকা বাড়িয়ে করে ১৮ টাকা করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসে খাবারের মান পর্যবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না। এছাড়া হলগুলোর ডাইনিং এ কোনও ভর্তুকি দেওয়া হয় না। ফলে দিনের পর দিন হলগুলোতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তা সত্ত্বেও মান ঠিক না রেখে দাম বাড়ানোর করার কোনও যৌক্তিকতা নেই।
প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের কাছে খাবারের মান বাড়ানোর দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে। তাই তারা যদি আমাকে ডাকেন, তাহলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে, যে নির্দেশনা দেবেন তা করা হবে।’
সপ্তাহে দু’দিন ক্যাম্পাস বন্ধ
গত ১৬ জুলাই থেকে সপ্তাহে দু’দিন (শুক্র ও শনি) বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অফিস সময় পরিবর্তন করে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা করা হয়। দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত নামাজ ও মধ্যহ্নভোজের বিরতি থাকবে। এর ফলে সপ্তাহে দু’দিন গ্রন্থাগার বন্ধ থাকছে। এর আগের মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৩ সালে সিন্ডিকেটে এ নিয়ম পাস করলেও তা কার্যকর করতে পারেননি উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান। ২০১৭ সালের ৭ মে আবার নিয়োগ পাওয়ার পর তা কার্যকর হলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘সপ্তাহে দু’দিন ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কোন যুক্তিতে, তা বোধগম্য নয়। এতে করে শিক্ষার মান কি বেড়েছে? নাকি দু’দিন বন্ধ রাখলে মান বাড়বে? দু’দিন বন্ধ থাকার ফলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারও বন্ধ থাকছে দু’দিন। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, ‘এসব বিষয়ে প্রোভিসিকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিয়েছে প্রোভিসির কাছে। প্রোভিসি এসব বিষয় নিয়ে আমার কাছে আসলে, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা করা হবে।’
সার্বিক বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগ লিখিতভাবে আমাদের জানিয়েছে। তাদের দাবি একেবারেই অযৌক্তিক নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/এসএমএ/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন: