দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলোর এই বেহাল অবস্থার পরেও তেমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি সড়ক বিভাগ। বালি ফেলে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করলেও বৃষ্টিতে তা পরিণত হচ্ছে কাদামাটির রাস্তায়। কাদা ও ধুলাবালিতে কষ্ট করেই চলাচল করছেন ঈদে ঘরমুখো সাধারণ যাত্রীরা।
টানা বর্ষণে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ঘাট থেকে বসন্তপুর স্টেশন বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকা। পাশাপাশি গোয়ালন্দ মোড় থেকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া সড়কের কল্যাণপুর ও আহলাদীপুর এলাকার মহাসড়ক এখন খানা-খন্দকের সড়কে পরিণত হয়েছে।
বসন্তপুর এলাকার স্থানীয় পথচারী আবুল কালাম বলেন, ‘বসন্তুপুর রেলগেইট এলাকার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তা দিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়।’
ফরিদপুর থেকে পাংশাগামী ট্রাক চালক মো. শামীম বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফরিদপুর ও দৌলতদিয়া থেকে রাজবাড়ী যাবার যেসব রাস্তা আছে, সব রাস্তার মধ্যেই ভাঙা ও গর্ত। ঝাঁকিতে গাড়ির রিং ভেঙ্গে পড়ছে। গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। সরকারের কাছে অনুরোধ যথাসাধ্য চেষ্টার মাধ্যমে রাস্তাগুলো মেরামত করে দেন।’
মটর সাইকেল চালক মো. সৈকত বলেন, ‘বসন্তপুর রেল ক্রসিং এলাকার রাস্তার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। রাজবাড়ী বা ফরিদপুর যেতে এই এলাকার সবাইকে এই রাস্তা পার হতে হয়। মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। যনজীবনের জন্য দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি করছে। আমরা খুবই কষ্ট ভোগ করছি।’
ইজি বাইক চালক মিন্টু বলেন, ‘বসন্তপুর এলাকা ও কল্যাণপুর এলাকার রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হয়।’
মহাসড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলে দুরবস্থা এবং যাত্রী ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এ রুটের যাত্রী ও গাড়িচালকরা।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ঈদ উল ফিতরে আমরা রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে ঘরমুখো যাত্রীদের একটি সুন্দর যাত্রাপথ উপহার দিতে পেরেছিলাম। পরবর্তীতে বর্ষার কারণেই রাস্তার বিপর্যয় হয়েছে। আসন্ন ঈদ উল আজহায় ঈদযাত্রা নিবিঘ্ন করতে প্রতিনিয়ত সড়কগুলোর রুটিন মেইনটেনেন্স করা হচ্ছে ও সংস্কার কাজ চলছে।