সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ঈদ শুভেচ্ছা সম্বলিত ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার তামাই উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। বেলকুচি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আলীম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম খান পাপ্পু সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সবুজ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মজনু শিকদার ও উপজেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোক্তার হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহত রাজাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল, ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল ইসলাম ও ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাহীন, বিএনপি নেতা বরাদ আলী, বেলকুচি পৌর যুবদেলর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুরুজ মন্ডলসহ বাকিদের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ঈদের দুই দিন আগে তামাই বাজার এলাকায় পাপ্পু গ্রুপের সমর্থকরা আমিরুল ইসলাম খান আলীমের সাঁটানো ব্যানারের পাশে ঈদ শুভেচ্ছা সম্বলিত ব্যানার লাগাতে যায়। এ সময় আলীম গ্রুপের লোকজন বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার উভয় পক্ষের লোকজন ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিএনপির উপ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম বলেন, ‘পাপ্পুর লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমার গ্রামে হামলা চালায়। গ্রামের লোকজন প্রতিরোধ করতে গেলে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ হয়।’
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম খান পাপ্পু জানান, ‘শুনেছি, একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
এসআই আব্দুল আলীম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।