কুমিল্লায় কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা

কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কুমিল্লার নারীরা

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা। জৈব কেঁচো সার ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনও বাড়ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পাইকপাড়া, সিঁধুচী, মনোহরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে কেঁচো সার উৎপাদন করছে প্রায় অর্ধ-শতাধিক নারী। ঘরের কাজের পাশাপাশি স্বল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে কেঁচো সার উৎপাদন করে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

পাইকপাড়া গ্রামের মো. মোখলেছের স্ত্রী নাছিমা বেগম জানান, পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নামের একটি এনজিও তাদের কেঁচো সার উৎপাদনের পরামর্শ দেয়। রিংয়ের মধ্যে গোবর আর কেঁচো দিয়ে তিনি সার তৈরি করেন। প্রতি কেজি সার বিক্রি করেন ১০ থেকে ১৫ টাকা করে। মাসে তার পাঁচ হাজার টাকার ওপরে আয় হয়।

তিনি আরও জানান, কেঁচো নিয়ে কাজ করায় প্রথমে অনেকে কটুক্তি করে কথা বলতেন। কিন্তু আয়  রোজগার ভালো দেখে তিনি পিছু হটেননি। তার স্বামীও কেঁচো নিয়ে কাজ করার বিষয়টি পছন্দ করেননি। তবে তার দেখাদেখি অনেকে এখন কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। কেঁচো সার উৎপাদনের আয় দিয়ে তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে ভালো আছেন।

কেঁচো সার উৎপাদন করছে প্রায় অর্ধ-শতাধিক নারী

নাছিমার স্বামী  মো. মোখলেছ জানান, প্রথমে বিষয়টি তার ভালো লাগেনি। তবে পরে দেখলেন এতে ভালো আয় হয়। তিনি নিজেও সার উৎপাদনে এখন স্ত্রীকে সহায়তা করেন। তিনি জমিতে এ সার ব্যবহার করে ভালো ফসল পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

এ সার উৎপাদনে ভালো লাভ হয় বলে জানান একই গ্রামের আরেকজন সার উৎপাদনকারী আলী হোসেনের স্ত্রী  ফাতেমা বেগম।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান, কেঁচো সার উৎপাদন করে নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এতে পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসছে। এছাড়া জৈব কেঁচো সার ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনও বাড়ছে। বিভিন্ন এনজিওর সহযোগিতার পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও নারীদের প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।