হেঁটে টেকনাফ থেকে বাংলাবান্ধায়!

বাংলাবান্ধা পৌঁছালে সাইফুলকে শুভেচ্ছা জানান তেঁতুলিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া (ছবি- প্রতিনিধি)

তখন সকাল। ঘটনাস্থল পঞ্চগড় জেলার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট। এক তরুণ এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন; কিন্তু তার ক্লান্ত-বিধ্বস্ত চোখেমুখে বিজয়ের আনন্দ! কারণ, তার দাবি, '১৮ দিনে টেকনাফ থেকে এক হাজার চার কিলোমিটার পথ হেঁটে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে' এসেছেন তিনি।

এই তরুণের নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ‘বাঁচতে হলে হাঁটতে হবে -এই স্লোগান নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফ থেকে আমি হাঁটা শুরু করি। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শুক্রবার সকালে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে এসে পৌঁছাই। দেশের পর্যটনখাতের প্রচারণার লক্ষ্য নিয়ে আমার এই পদব্রজে যাত্রা।'

সাইফুল গাজীপুর জেলার কাশিমপুর এলাকার বারেন্ডার বাসিন্দা। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সাইফুল ইসলাম মৃধা নাশীহ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ট্যুরিজম ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী। ‘অন্যরকম রিসোর্ট’ নামে একটি রিসোটও রয়েছে তার।

সাইফুল বলেন, 'বিশ্ব ট্যুরিজম দিবসকে সামনে রেখে গত ১৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফের শাপলা চত্বর জিরো পয়েন্ট থেকে আমি পদযাত্রা শুরু করি। ২৭ সেপ্টেম্বর পায়ে হেঁটে আমি ঢাকায় পৌঁছে বিশ্ব ট্যুরিজম দিবসের র‌্যালিতে অংশ নিই। এরপর আবারও পদযাত্রা শুরু করি। এভাবে ১৮ দিন হেঁটে আমি তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট স্পর্শ করি।'

তার দাবি, 'দিন প্রতি গড়ে ৫৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছি আমি। যাত্রাপথে শারীরিকভাবে কয়েকবার অসুস্থ হয়েও পড়েছিলাম। তবে থেমে যাননি, অদম্য মনোবল নিয়ে শেষমেশ বাংলাবান্ধায় পৌঁছি।'

তিনি আরও জানান, বাংলাবান্ধা পৌঁছালে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া। এছাড়া যাত্রাপথে তিনি বিভিন্ন স্থানে পথসভায় ডোমেস্টিক ট্যুরিজম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে নানান তথ্য তুলে ধরেন এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।

সাইফুল ইসলাম মৃধা বলেন, ‘দেশের পর্যটনখাত অনেক দূর এগিয়ে যাক। এ খাত দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখুক। অবহেলিত পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ুক।’

তিনি জানান, এবার তার লক্ষ্য, বাইসাইকেলে করে দেশের প্রতিটি উপজেলা ভ্রমণ করা। এ যাত্রায় তার স্লোগান হবে, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ এবং বই পড়ার প্রতি সতেচনতা।