‘বৃষ্টিতে দুর্ভোগ কিছুটা বাড়লেও রোহিঙ্গাদের বড় কোনও সমস্যা নেই’

নতুন করে আসছে হাজারো রোহিঙ্গা (ছবি: কক্সবাজার প্রতিনিধি)নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো কক্সবাজারেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টি হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পগুলোতেও। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পগুলোতে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে সাময়িক কিছুটা সমস্যা হলেও বড় ধরনের কোনও জটিলতা তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। গড়ে উঠছে নতুন নতুন রোহিঙ্গা বসতি (ছবি: কক্সবাজার প্রতিনিধি)

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘সারাদিন মেঘলা আকাশ, থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে বড় ধরনের কোনও সমস্যা নেই। বিশেষ করে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের বাসস্থান ও খাদ্য সামগ্রী দ্রুত নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাদের জন্য সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, চিকিৎসা, খাদ্য, ঘরসহ সব ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও তাঁবুসহ তাদের সরকার নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হচ্ছে। তিন হাজার একর এলাকার কোন জায়গায় তারা থাকবে তাও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।’রোহিঙ্গা শিশু (ছবি: কক্সবাজার প্রতিনিধি)

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের স্থান হয়েছে কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ক্যাম্পে ওঠার পরপরই এসব রোহিঙ্গাদের বস্তি তৈরির জন্য ত্রিপল, বাঁশ, কাপড় ও খাদ্য সামগ্রী দিয়ে ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গায় স্থান করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে গত দুইদিন ধরে মেঘলা আকাশ ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের ভোগান্তি কিছুটা বেড়েছে। আগে থেকেই সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্তদের অসুস্থতা আরও বেড়েছে।নতুন করে আসছে হাজারো রোহিঙ্গা (ছবি: কক্সবাজার প্রতিনিধি)

মিয়ানমারে নির্যাতন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের খাদ্য, চিকিৎসা সেবাসহ সব ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত বালুখালীতে তিন হাজার একর এলাকায় ২০টি ব্লক করে রাখা হচ্ছে তাদের। রোহিঙ্গাদের জন্য টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন স্থাপন, ঘর, সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।নতুন করে আসছে হাজারো রোহিঙ্গা (ছবি: কক্সবাজার প্রতিনিধি)

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি ক্যাম্পে দুই লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। মিয়ানমারে নির্যাতিত শিশুদের জন্য রিজিওনাল ট্রমা সেন্টার, নারীদের জন্য কাউন্সেলিং সেন্টার ও ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোগান্তি কিছুটা বেড়েছে রোহিঙ্গাদের। এখনও যারা নির্ধারিত জমিতে তাঁবু তৈরি করতে পারেনি তাদের খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে। বৃষ্টি বেশি হলে এসব রোহিঙ্গারা বেশি দুর্ভোগে পড়বেন বলে জানান সেখানে আগে থেকে বাস করা অন্য রোহিঙ্গারা।

আরও পড়ুন- রান্নার লাকড়ির জন্য গাছের শেকড়ও কেটে ফেলছে রোহিঙ্গারা