তিন বছরেও জলাবদ্ধতা কাটেনি নরসিংদীর ইসলামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে

ইসলামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সারাবছরই জমে থাকে পানিসারাবছরই স্কুলের মাঠে থাকে পানি। এ কারণে স্কুলের মাঠে খেলতে পারে না শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, দৈনিক সমাবেশ, এমনকি জাতীয় সংগীতও পরিবেশন করতে পারে না শিক্ষার্থীরা। আর একটু বৃষ্টি হলেই স্কুলের প্রধান গেট থেকে শুরু করে ক্লাস রুমের সামনেও জমে থাকে পানি।
দীর্ঘ তিন বছর ধরে এমন জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার অর্ধশতাব্দী প্রাচীন ইসলামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রায়পুরা-নরসিংদী সড়কেও। দীর্ঘ জলাবদ্ধতায় পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় তৈরি হওয়ায় নবনির্মিত এই সড়কটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। টানা তিন বছর ধরে এ সমস্যা চলে এলেও সমাধানের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
সরেজমিন ইসলামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের মাঠজুড়েই এখানে-ওখানে পানি জমে আছে। শিক্ষকরা উদ্যোগ নিয়ে মাঠের একপাশে বালির বস্তা ফেলে যাতায়াতের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেছেন। তবে বেশিরভাগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরই চলাচল করতে হয় পানি পেরিয়ে। প্রতিদিনই পানি মাড়িয়ে যেতে হয় বলে শিক্ষার্থীদের ঠাণ্ডা, জ্বর, কাশিসহ পানিবাহিত রোগ লেগেই আছে।
একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেশিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়পুরা উপজেলার প্রাচীন বিদ্যাপিঠ ইসলামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে। বর্তমানে এই স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ছয়শ, শিক্ষকের সংখ্যা ৪৫। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিতেও জেলার অত্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই স্কুল। কিন্তু গত তিন বছরের জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরাও।
একই আঙ্গিনায় অবস্থিত তিনশ শিক্ষার্থী ৯ শিক্ষকের হাটুভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও তথৈবচ। তাদেরও প্রতিদিন স্কুলে চলাচল করতে হচ্ছে পানি মাড়িয়ে।
ইসলামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয় মাঠ অত্যন্ত নিচু হওয়ায় বৃষ্টি হলেই মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসময় পাশের পুকুরসহ নিচু এলাকার জমি ও মাঠের পানি একাকার হয়ে পড়ে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও ড্রেন না থাকায় পানি নামতে এক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার আবদেন জানালেও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইলমী আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলে, ‘প্রায় তিন বছর ধরে আমরা স্কুলের মাঠে কোনও খেলাধুলা করতে পারছি না। এছাড়া স্কুলের সমাবেশ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনও সম্ভব হচ্ছে না।’
স্কুলের সামনের সড়ক, সেখানেও জলাবদ্ধতা সারাবছরেরএকই শ্রেণির শিক্ষার্থী সফিকুল ও শামীম জানায়, প্রতিদিন পানি দিয়ে যাতায়াতের ফলে কাঁদা ও পানিতে জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের প্রতিদিনই স্কুলে আসাতে সমস্যা হয়। সর্দি-কাশি, জ্বর লেগেই থাকে।
হাটুভাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকিয়া নার্গিস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত মার্চ মাস থেকে আমি প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একদিনও মাঠ শুকনো পাইনি। পানি মাড়িয়ে স্কুল ও ক্লাসরুমে যাতায়াত করতে করতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পায়ে ঘা হয়ে গেছে।’
ইসলামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুনুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্থানীয় কিছু ব্যক্তি স্কুলের তিন পাশে অপরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করেই পুকুর খনন করায় বিদ্যালয়ের মাঠে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া পাশের সড়কটি স্কুলের মাঠের চেয়ে উঁচু হওয়ায় সেটার পানিও মাঠে ঢুকে যায়। ফলে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করে।’ এ সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বরাদ্ধ আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত এবং দৈনন্দিন সমাবেশও তারা করতে পারছে না বলে জানতে পেরেছি। সরেজমিন তদন্ত করে শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে, প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
আরও পড়ুন-
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, আতঙ্কে নেত্রকোনাবাসী
নাশকতাসহ ছয় মামলায় রংপুর বিএনপি’র তিন নেতা কারাগারে