এর আগে শনিবার ও রবিবার (২৯ অক্টোবর) পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে ঘুরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান নিখোঁজ অহেদুল ইসলামের বাবা নুর হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে অবশেষে জিডি নেওয়া হয়।
গত ৮ অক্টোবর অহেদুল সোনারগাঁও থেকে নিখোঁজ হন।
রবিবার বিকালে সোনারগাঁও থানার সামনে কথা হয় অহেদুলের বাবা নুর হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, বরিশালের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাকরাইল গ্রামে তাদের বাড়ি। তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেছেন। তাদের একমাত্র ছেলে অহেদুল ইসলাম (২২) কখনও বাবার কাছে কখনও মায়ের কাছে থাকেন। সম্প্রতি অহেদুল সোনারগাঁওয়ের মেঘনা শিল্প নগরীর তানভীর পেপার মিলে চাকরি নেয় এবং সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ডিগ্রিতে ভর্তি হয়।
নিখোঁজের পর অহেদুলকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে অহেদুলের বাবা নূর হোসেন ভাগিনা মনির হোসেন ও ভাতিজা ওবায়দুল হককে সঙ্গে নিয়ে শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টায় সোনারগাঁও থানায় জিডি করতে আসেন। সোনারগাঁও থানার ডিউটি অফিসার এএসআই অজিত চন্দ্র বর্মন তাদের জানান, থানায় ওসি উপস্থিত নেই। তাই এ জিডি নেওয়া সম্ভব নয়।তিনি রবিবার (২৯ অক্টোবর) আসার পরামর্শ দেন।
এএসআই অজিত চন্দ্র বর্মনের কথা অনুযায়ী রবিবার সকাল ১০টার দিকে এসে ডিউটি অফিসার এএসআই মুজিবুর রহমানকে এ বিষয়ে বিস্তারিত বললে তিনিও একই কথা বলেন। পরে সোনারগাঁও থানার ওসি (অপারেশন) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারের কাছে গেলে তিনি সেকেন্ড অফিসার ফায়েজুর রহমানের কাছে যেতে বলেন। কিন্তু বিকাল ৩ টার দিকে ফায়জুর রহমান থানায় ছিলেন না। মোবাইল ফোনে ফায়েজুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনিও ওসির দোহাই দেন।
সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক ও সেকেন্ড অফিসার ফায়েজুর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তি কোনও অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আত্মগোপনে যেতে পারে। তবে ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।’
জিডি করতে দুই দিন ঘোরানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি আমি রবিবার দুপুরে জেনেছি।’
সোনারগাঁও থানার ওসি (অপারেশন) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, ‘সেকেন্ড অফিসারের সঙ্গে পরামর্শ করে জিডি করতে বলা হয়েছে।’