সাংবাদিক শিমুল হত্যা: হাজিরার সময় বিশৃঙ্খলা করায় আটক ৯, মুচলেকায় ছাড়া

আব্দুল হাকিম শিমুলদৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলায় হাজিরা দেওয়ার সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে মেয়র মিরুর সহোদর হাবিবুল হক মিন্টুসহ ৯ জনকে আটক করে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। পরে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) সকালে সাংবাদিক শিমুল হত্যাকাণ্ডের মামলার শুনানিতে মিন্টুসহ জামিনপ্রাপ্তরা শাহজাদপুর আমলি আদলাতে এসে হাজিরা দেন। শুনানি শেষে দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মিরুর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন আয়োজনের নামে পৌর শহরের বেশ ক’টি স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। মেয়রের সহোদর মিন্টুসহ দু’শতাধিক স্বজন-সমর্থকরা ওই বিশৃঙ্খলার নেতৃত্বে ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মিন্টুসহ ৯ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। মিন্টুর অপর সহোদর হাসিবুল হক পিন্টুর নেতৃত্বে তাদের সমর্থকরা এরপর থানায় ভিড় জমায়। পুলিশ তাদের চাপে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাজা মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর শাহজাদপুর পৌর এলাকার গৌরি সিনেমা হলের সামনে আসামি মিরুর সহোদর মিন্টুর নেতৃত্বে মিছিল-মিটিং বা মানববন্ধনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। পরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় তাদের থানায় নিয়ে এসে সতর্ক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।’

শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিমল কুমার কুণ্ড বলেন, ‘এ ঘটনায় শাহজাদপুরের গণমাধ্যমকর্মীরা অবাক হয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, গত ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর পৌর শহরে শাহজাদপুরের আলোচিত মেয়র হালিমুল হক মিরুর (বর্তমানে দল ও মেয়রের পদ থেকে সাময়িক বহিস্কৃত) সহোদর মিন্টু ও পিন্টুর সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে বিজয়কে মারপিট করে হাত-পা ভেঙ্গে মেয়রের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। ওই ঘটনায় সরকারদলীয় লোকজনের সঙ্গে মিন্টু ও পিন্টুসহ মেয়র মিরুর সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মিরু ও মিন্টু গুলি ছোড়ে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে সাংবাদিক শিমুল গুলিবিদ্ধ হয়ে পরদিন বগুড়া থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান।

এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী ও ছাত্রলীগ নেতা বিজয় পৃথক দু’টি মামলা করেন। শিমুলের স্ত্রীর মামলায় মিরু ও তার সহোদর মিন্টুসহ ১৮ জন এবং অজ্ঞাত আরও ২০/২২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ের পক্ষে তার চাচা এরশাদ আলী পিন্টুসহ আরও ২০ জনের নামে মামলা করেন। গত ২ মে শিমুলের স্ত্রীর মামলায় মিরু ও মিন্টুসহ ৩৮ জনের নামে শাহজাদপুর আমলি আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। এর প্রায় এক মাস পরে অপর মামলায় পিন্টুসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে আরেকটি চার্জশিট দাখিল করেন শাহজাদপুর থানা পুলিশ।

এদিকে, এ দু’টি মামলার আরও ১৬ জন আসামি শাহজাদপুর আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সাময়িক বহিস্কৃত মেয়র হালিমুল হক মিরু, তার সহোদর হাবিবুল হক মিন্টু, আরেক সহোদর হাসিবুল হক পিন্টু ও একান্ত সহযোগী বহিস্কৃত উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা একেএম নাসির উদ্দিনসহ পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে। যাদের মধ্যে মিন্টু, পিন্টু ও নাছিরসহ সকলেই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হলেও মিরু এখনও জেলা কারাগারেই রয়েছেন। ৩০ জন গ্রেফতার হলেও চার্জশিটভুক্ত আট আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।

 আরও পড়ুন:
রূপা হত্যায় দোষীদের বিচার দাবি আসামির পরিবারের