প্রায় দু’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস পূর্নিমা ও গঙ্গাস্নান উৎসবকে ঘিরে বর্ণিল সাজে সেজেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হয়ে শনিবার সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পূণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের রাস উৎসব। এ মেলা উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জোনের এএসপি মো. আ. করিম বলেন, ‘রাস উৎসবে আগত সব তীর্থ যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত পুলিশ।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুক্রবার সকাল থেকেই কুয়াকাটা সৈকতে পুণ্যার্থী ও দর্শনাথীদের ঢল নামবে বলে জানিয়েছে রাস মেলার আয়োজক কমিটি।
রাস উৎসবকে ঘিরে সৈকত থেকে শুরু করে হোটেল-মোটেল, রেস্টহাউস ও বাংলোগুলো সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য কুয়াকাটার পর্যটন স্পট নারিকেল ও ঝাউ বাগান, রাখাইন পল্লি, কেরানীপাড়া বৌদ্ধ বিহার, রাখাইন কালচারাল একাডেমি ও রাখাইন মার্কেট এলাকাকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
রাস মেলা ও পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজল বরণ দাস জানান, রাস পূর্নিমা উৎসব ও মেলাকে ঘিরে এখন প্রস্তুত কুয়াকাটা রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রম। মন্দিরে ১৭ জোড়া রাধা-কৃষ্ণের যুগল প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ১৬ প্রহরব্যাপী ৬টি দলের কীর্তন।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটার রাস উৎসব এখন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উৎসবে পরিণত হয়েছে। রাস উৎসব উপলক্ষে হোটেল-মোটেলগুলিতে আগাম বুকিং রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভির রহমান বলেন, ‘রাস মেলা উপলক্ষে আগত সকল তীর্থ যাত্রীদের জন্য নিরাপত্তাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’