জমি লিখে না দেওয়ায় শাশুড়িকে খুন, তিন জনের যাবজ্জীবন

 

মানিকগঞ্জমানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার হিজুলীয়া গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তার মা হত্যা মামলায় তিন জনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই জন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিন জন হলেন, আবু সাইদ ও তার দুই বন্ধু আব্দুল আল মামুন ও উজ্জল। খালাস পেয়েছেন সংকর।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৫ জুলাই রাতে পুলিশ কর্মকর্তা এটি এম মনিরুজ্জামানের মা তাজাল্লিয়া বেগম আলোকে  হত্যা করা হয়। তাজাল্লিয়ার ছোট মেয়ের জামাই আবু সাইদ শাশুড়িকে জমি লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিল। জমি লিখে না দেওয়ায় আবু সাইদ ও তার দুই বন্ধু আব্দুল আল মামুন ও উজ্জলকে নিয়ে তার শাশুড়িকে হত্যা করেন। বিষয়টিকে ডাকাতি হয়েছে বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। ঘরের স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিস লুট করে সংকর নামের এক স্বর্ণকারের কাছে বিক্রয় করে। পরে পুলিশ সংকরের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেফতার করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহতের মেঝ মেয়ের স্বামী মো. আওয়াল খান বাদী হয়ে ঘিওর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরের দিন পুলিশ সাইদকে ঘিওর থেকে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তির পর অন্যান্যদের মানিকগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি মো. আব্দুল সালাম এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. দেলোয়ার হোসেন।