প্রশিক্ষণার্থীদের আন্দোলনে উত্তপ্ত দিনাজপুর পিটিআই

Dinajpur PTI Photo- (3)দুই প্রশিক্ষণার্থীর ভর্তি বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার এবং চার ইন্সট্রাক্টরকে বদলির দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিনাজপুর প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)। ডিপিএড কোর্সে প্রশিক্ষণরত ১৬১ জন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন দাবি মানা না হলে তারা ক্লাসে ফিরবেন না।

বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম তৌফিকুজ্জামান আন্দোলনরত প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। অন্যদিকে এবিষয়ে নিজেদের কোনও সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

Dinajpur PTI Photo- (1)দিনাজপুর পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে দিনাজপুর পিটিআই-তে ডিপিএড কোর্সে মোট ১৮৪ জন প্রশিক্ষাণার্থী ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাক্তিগত সমস্যার কারণে ২৩ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি বাতিল করে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যায়। বাকি ১৬১ জন প্রশিক্ষার্থী প্রশিক্ষণের প্রায় শেষ পর্যায়ে আছেন। কিন্তু গত ২৮ অক্টোবর দিনাজপুর পিটিআই’র সুপারিনটেনডেন্ট দিলরুবা চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে টানা ২১ দিন অনুপস্থিত থাকায় প্রশিক্ষণার্থী ইব্রাহিম আলী (পাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক) এবং আরিফ সরদারের (সহকারী শিক্ষক, আটরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্বতীপুর, দিনাজপুর) ভর্তি বাতিল করা হয়।

আগাম কোনও নোটিশ বা কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের বাতিল করায় বুধবার বিকেল থেকে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দিনাজপুর পিটিআই’র প্রশিক্ষণার্থীরা। এই অবস্থায় ভর্তি বাতিলকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেন প্রশিক্ষণার্থীরা। তারা সাফ জানিয়ে দেন দুজন প্রশিক্ষণার্থীর ভর্তি বাতিল করলে ১৬১ জন প্রশিক্ষণার্থীর ভর্তি বাতিল করতে হবে। বুধবার বিকেলে তারা ডিপ ব্রিফিংয়ের ক্লাসে অংশ না নিয়ে পিটিআই গেটে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ প্রশিক্ষণার্থীরা পিটিআই ভবনের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে দিনাজপুরের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের কিছুটা শান্ত করেন। ফলে আন্দোলনরত প্রশিক্ষণার্থীরা পিটিআই ভবনের মূল গেটের তালা খুলে দেন। 

Dinajpur PTI Photo- (2)এদিকে প্রশিক্ষণার্থীরা অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিন ধরে পিটিআই’র ইন্সট্রাক্টর ফনি ভুষণ রায়, যুথি রানী দাস, গোলাম কিবরিয়া ও শারমিন সুলতানার অসদাচারণে তারা অতিষ্ট। তারা প্রশিক্ষাণার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। তাদের ইন্ধনেই পিটিআই’র সুপারিনটেডেন্ট দুই প্রশিক্ষণার্থীর ভর্তি বাতিল করেছেন।

এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম তৌফিকুজ্জামান দফায় দফায় প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করলেও প্রশিক্ষনার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেননি।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম তৌফিকুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলা হলেও তিনি সঠিক জবাব দিতে পারেননি। তবে তিনি জানান, প্রশিক্ষণার্থীদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার বিষয়টি পিটিআই কর্তৃপক্ষের।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর পিটিআই’র সুপারিনটেডেন্ট মোছাম্মৎ দিলরুবা চৌধুরী বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী দুই শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির  (নেপ) পরীক্ষা পরিচালনা উপবিধি-২০০৯ এর বিধি ১২.১৬ (অংশ-২) এর ধারা মোতাবেক তাদের ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রসিক নির্বাচন: আওয়ামী লীগে প্রার্থীর আধিক্য, এখনও দ্যোদুল্যমানতায় বিএনপি