ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনচট্টগ্রাম নগরীর ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জেলা প্রশাসনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা। শনিবার (১১ নভেম্বর) বিকালে নগরীর চেরাগী পাহাড় চত্বরে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সাংস্কৃতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ সমাবেশের আয়োজন করে। ওই সমাবেশ থেকে তারা এ দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ডিসি হিল চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি প্রধান স্থান। এখানে প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চা ও বাঙালি ঐতিহ্যের নানা অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়ে আসছে। ডিসি হিলে বাংলা নববর্ষের উৎসব ছাড়াও বইমেলা, লোক সংস্কৃতি উৎসব, নবান্ন উৎসব, বসন্ত উৎসব, বর্ষাবরণের মতো নানা উৎসব উদযাপন করা হয়। এসব অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মানে হচ্ছে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের টুঁটি চেপে ধরা। অতীতেও এ ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রামের সংস্কৃতি কর্মীরা সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। আগামীতেও এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠবে।

সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলেন, সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কারণে চট্টগ্রামের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠক-শিল্পীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ‘সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার’ প্রতিবন্ধক ও বাঙালি ঐতিহ্যের লোক সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

তারা আরও বলেন, সরকার যেখানে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মৌলবাদ প্রতিরোধে সারাদেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর জন্য বিশেষভাবে জোর দিয়েছে, সেখানে ডিসি হিলের মতো স্থানে অনুষ্ঠান করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করবে না, এতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে সহায়ক হবে।

শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফির সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রাম ও খেলাঘরের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডা. চন্দন দাশ, কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুচরিত দাশ খোকন, চবি নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. কুন্তল বড়ুয়া, কবি আশীষ সেন, সাংস্কৃতিক সংগঠক সুনীল ধর, উদীচী চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক শীলা দাশগুপ্তা, সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপেন চৌধুরী, সংগীত শিল্পী মানস পাল চৌধুরী,সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ স্বর্ণময় চক্রবর্তী, অবসর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সঞ্জিত আলম, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল প্রমুখ।