সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াদ হোসেনসহ পাঁচ জনকে এক মাসেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ বলছে, আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। কিন্তু বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রধান আসামিসহ অন্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের খুঁজে পাচ্ছে না।
গত ২৪ অক্টোবর ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ জনকে আসামি করে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা করেন ভিকটিমের বাবা। আদালত মামলা তদন্ত করে দেখার দায়িত্ব দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
মামলার আসামিরা হলো, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বেলকুচির চরখাষিয়া গ্রামের রকিব উদ্দিন মাস্টারের ছেলে রিয়াদ হোসেন (২৫) এবং তার সহযোগী বেলকুচির চরচালা গ্রামের মিন্টু কসাইয়ের ছেলে আরমান হোসেন (২৬), ফজলুল হকের ছেলে আল-আমিন হোসেন ও মৃত সোনা উল্লাহ’র ছেলে রুবেল শেখ, কলাগাছি গ্রামের মমিন সেখের ছেলে রতন শেখ ওরফে পিচ্চি রতন (২৪) এবং গাড়িমাসি গ্রামের নিমাই ডাক্তারের ছেলে পাপ্পু। এরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী।
বাদীর অভিযোগ, ‘আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ তাদের ধরছে না। এই সুযোগে তারা (আসামিরা) আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে। দিন কাটছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়।’
এ ব্যাপারে পিবিআই’র সিরাজগঞ্জ জেলার প্রধান কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস.এম তারেক রহমান বলেন, ‘আসামিদের ধরতে আমরা বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে আসেনি। ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৭/৮ মাস আগে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ হোসেন স্কুল কমিটি গঠনের জন্য আসলে ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয়। স্কুল কমিটিতে ওই ছাত্রীকে সিনিয়র সহ-সভাপতির পদও দেওয়া হয়। এ সূত্র ধরেই প্রেমের ফাঁদে ফেলে রিয়াদ হোসেন মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। বিয়ের জন্য চাপ দিলে রিয়াদ মেয়েটিকে মারধর করে। পরে ২৪ অক্টোবর ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন মেয়েটির বাবা।