রসিক নির্বাচন: আলোচনায় তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী

নাদিরা (ছবি- প্রতিনিধি)

মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রচারে জমে উঠেছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন। প্রার্থীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। প্রধান তিন দলের মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি এবার আলোচনায় আছেন সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী তৃতীয় লিঙ্গের নাদিরা বেগম। সমাজ সেবক ও প্রতিবাদী হিসেবে আগে থেকে পরিচিতি থাকায় কাউন্সিলর পদে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন ভাবা হচ্ছে তাকে।


নির্বাচনের প্রচারণার সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে। তাই প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। বসে নেই নাদিরা বেগমও। গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনিও। ভোটাররাও তাকে জয়ী করার আশ্বাস দিচ্ছেন। সিটি করপোরেশনের ১৮, ২০ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর নাদিরা।

গণসংযোগে ছুটছেন নাদিরা (ছবি- প্রতিনিধি)
নগরীর লালবাগ রেলগেট এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন নাদিরা। এ বাড়ির সামনেই তার নির্বাচনি কার্যালয়। সরেজমিনে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে নাদিরার নির্বাচনি কার্যালয়ে গিয়ে তার সমর্থকদের জটলা দেখা যায়। এরপর সমর্থকদের নিয়ে তিনি আশেপাশের এলাকায় গণসংযোগে বের হন।
নাদিরাকে নিয়ে তার নির্বাচনি ওয়ার্ডের মমতাজ বেগমের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘নাদিরা একজন ভালো মনের মানুষ। তার কাছে বিপদে-আপদে ছুটে গেলে সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া যায়। এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন নাদিরা। তাই যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তাকেই সবার ভোট দেওয়া উচিত।’ সালমা বেগম নামে লালবাগ রেলগেট এলাকার এক নারী ভোটার বলেন, ‘নাদিরা সবার সঙ্গেই আপন মানুষের মতো মিশে যান। এটা আমাদের খুব ভালো লাগে। এছাড়া তার কাছ থেকে যে কোনও সময় সহযোগিতা পাওয়া যায়।’

লিফলেট দিচ্ছেন নাদিরা (ছবি- প্রতিনিধি)
একই এলাকার মনিজা বেগম বলেন, ‘কিছু দিন আগে তার অসুখ হয়। তখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় নাদিরা। তার এ ঋণ কিভাবে ভুলি?’
বাবু খাঁ নামে এক ব্যক্তি জানান, নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই তাদের বিপদে-আপদে পাশে এসে দাঁড়ান নাদিরা।
নাদিরা বেগম জানান, এক সময় অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিন কেটেছে তার। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা সমাজের কাছে এখনও হাস্যরসের বস্তু। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। এখন তারা অনেক ভালো আছেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করবেন। এলাকা ও এলাকার মানুষের কল্যাণেও কাজ করবেন।

নাদিরার মাথায় হাত ভুলিয়ে দিচ্ছেন এক বৃদ্ধা (ছবি- প্রতিনিধি)