বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৩ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নড়াইলে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী ‘সুলতান মেলা’। সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠে সুলতান মঞ্চ চত্বরে মঙ্গলবার বিকেল (২৬ ডিসেম্বর) থেকে এ মেলা শুরু হচ্ছে। আজ বিকেল ৪টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া।
জেলা প্রশাসক ও সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো.এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ অতিথিরা হলেন, নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সামাদ উল্লাহ মজুমদার, পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, নড়াইল পৌরসভার মেয়র মো. জাহাঙ্গীর বিশ্বাস।
মেলাকে ঘিরে পুরো শহরে উৎসব বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসন ও সুলতান ফাউন্ডেশন যৌথভাবে মেলার আয়োজন করেছে। মেলার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে থাকছে চিত্র প্রদর্শনী ও লাঠিখেলাসহ আকর্ষণীয় গ্রামীণ খেলাধুলা, জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রতি রাতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে আবৃতি, নাটক ও জারিগানসহ সুলতান স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে। এছাড়াও সুলতানের জীবন ও দর্শনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গুণী ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
সুলতান ফাউন্ডেনের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মিকু জানান, মেলাকে জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করতে যাবতীয় প্রস্তুতি এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। মেলায় স্পন্সর হয়েছে পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
এবার সুলতান পদক পাচ্ছেন শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। আগামী ৪ জানুয়ারি সুলতান পদক দেওয়াসহ মেলার সমাপনী দিন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন এবং সুলতান পদক প্রদান করবেন।
এদিকে সপ্তাহব্যাপী সুলতান মেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনগুলো জেগে উঠেছে। মেলায় গ্রামীণ কুঠির শিল্পসহ বিভিন্ন পণ্যের ১০০টি স্টল বসেছে।
জানা গেছে, শিল্পী সুলতানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৯২ সাল থেকে সুলতান মেলা উদযাপিত হয়ে আসছে। ১০ আগস্ট শিল্পীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ উৎসব পালিত হয়ে আসলেও বর্ষার কারণে ২০০৩ সাল থেকে মেলার দিনক্ষণ পিছিয়ে শীতকালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক পান। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট অব আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মননা পান। ১৯৪৬ সালে ভারতের সিমলায় তার একক চিত্র প্রদর্শনী, লাহোরে ১৯৪৮ সালে, করাচিতে ১৯৪৯ সালে, লন্ডনে ১৯৫০ সালে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ১৯৭৬ সালে এবং ঢাকায় অবস্থিত জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ১৯৮৭ সালে তার চিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও দেশ-বিদেশে বহুবার তার ছবি প্রদর্শিত হয় যা সবার নজর কাড়ে। ১৯৯৪ সালে ১০ অক্টোবর দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভোগার পর যশোরের সম্মিলিত হাসপাতাল তিনি শেষ-নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সুলতানের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তার নিজ বাড়িতে নির্মিত হয়েছে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা।
আরও পড়ুন: বেনাপোল সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট উদ্ধার