বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস অশান্ত করার চেষ্টা করছে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জ্যোতিষী আখ্যা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে নিয়ে ভাববেন না। ওটা এখন নালিশ পার্টি। ঈদের আগে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ঘোষিত আন্দোলনকে ভ্যানিটি ব্যাগে ভরে তিনি চলে যান লন্ডনে।’
আন্দোলনে ব্যর্থ ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঝে মধ্যেই কান্নাকাটি করেন মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মনে কি আছে, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে দেশে রক্তের স্রোত বইয়ে দিয়েছিলেন আপনারা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বছরের পর বছর এলাকা ছাড়া করে রেখেছিলেন। তাদের বাড়িঘরে থাকতে দেননি। হত্যার রাজনীতি করেছেন, দেশের মানুষ তা ভুলেনি।’
বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘হাওয়া ভবনে বসে দেশ লুটপাটের সুযোগ আর পাবেন না। বাংলার জনগণ আর আপনাদের ভোট দেবে না। হাওয়া ভবনের লুটপাট, ২০০১ সালের রক্তপাত, নারী ধর্ষণ, গুম, খুন –এসব দেশের মানুষ ভুলে যায়নি।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চিহ্নিত চাঁদাবাজ বা সাম্প্রদায়িক কোনও ব্যক্তি আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। কমিটিতে দুঃসময়ের ত্যাগীদের স্থান দিতে হবে। এখন ক্ষমতা আছে, অভাব নেই। সুবিধাবাদীরা সুযোগ পেলে ভেতরে এসে ঢুকবে। সুবিধা আদায় করে, শীতের পাখিদের মতো চলে যাবে। এই অতিথি পাখিদের পরে বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কমিটি করবেন, ত্যাগী কর্মীদের বাদ দেবেন না। পকেট কমিটি করবেন না। দল ভারী করার জন্য খারাপ লোকদের টানবেন না।’
তিনি বলেন, ‘দেশে এখন নেতার অভাব নেই। বিলবোর্ডের দিকে তাকালে দেখা যায়, কত নেতা! আদুলি নেতা, পিসি নেতা, পাতি নেতা, সিকি নেতা, সব বিলবোর্ডে। বিলবোর্ডের ছবি ক্যামেরার মধ্যে চলে এসেছে, চেহারাটা ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপ। সামনে দেখি এক চেহারা, আবার বিলবোর্ডে দেখি আরও এক চেহারা। ডিজিটাল বাংলাদেশ, চেহারাও নায়কের মতো করে দেয়। চেহারা দেখিয়ে নেতা হওয়া যাবে না। কাজ করে নেতা হতে হবে। জনগণকে খুশি করে নেতা হতে হয়। কর্মীদের সুঃখ-দুঃখ দেখবে যারা, তারাই নেতা। কর্মীদের পাশে নেতা সুখে থাকেন, দুঃসময়ে থাকেন।’
নেতাকর্মীদের প্রতি দলের পুরনো, ত্যাগী ও অসুস্থ নেতাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। জনগণকে খুশি করবেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার এত উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে, যদি আপনাদের আচরণ খারাপ হয়।’
সংখ্যালঘুদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘এখানে সংখ্যালঘুদের কিছু অভিযোগ আছে। তাদের সঙ্গে বসে, যেসব অভিযোগ আছে তা সমাধান করবেন। নেত্রীর নির্দেশ আমি আপনাদের জানিয়ে দিলাম। কারণ আমি যেখানে যাই, যাওয়ার আগে নেত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে নিই, পরে কথা বলি। আমরা জনগণের সঙ্গে ছিলাম, আছি।’
কর্মীসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। ওবায়দুল কাদের কর্মীসভায় পৌঁছানোর আগে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু সালেহ মো. সাঈদ দুলাল, লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমানসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন– সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএম মোজাম্মেল হক, অ্যাডভোকেট সফুরা বেগমসহ অনেকে।