সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি এলাকায় পুলিশের গুলিতে এক গ্রামবাসী নিহত ও সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ তিন জনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কর্তব্য বর্হিভূত কোনও আচরণের প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
নূরে আলম মিনা বলেন,‘ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি যদি পুলিশ সদস্যদের দোষ পেয়ে থাকে, তবে তাদের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দোল্লাহ রেজাকে প্রধান করে তিন সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) রেজাউর রহমান ও সিনিয়র সহাকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শাহজাহান ভূঁইয়া।
প্রসঙ্গত ২৪ জানুয়ারি রাতে ভাটিয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের তেলিপাড়ায় সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাজমুল হুদা, কনস্টেবল আবুল কাশেম ও আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়। এসময় পুলিশের গুলিতে সাইফুল ইসলাম (১৬) নামে স্থানীয় এক যুবক মারা যান। কবির আহমেদ ভোলা (৫৫) ও ইমরান আলী জয় (১৯) নামে আরও দুই জন পুলিশের গুলিতে আহত হন।
ঘটনার বিষয়ে ভাটিয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজীম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তিন পুলিশ সাদা পোশাকে রাত ৯টার দিকে তেলিপাড়া এলাকায় টহল দিতে গিয়ে রাস্তায় আড্ডারত তিন জনকে জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চান। এসময় স্থানীয়রা বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর মারামারি ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের গুলিতে সাইফুল নামে একজন নিহত ও দুইজন আহত হয়।’
এ সর্ম্পকে জানতে চাইলে নূরে আলম মিনা বলেন,‘অভিযুক্ত তিন জন জানিয়েছে ইয়াবা থাকার তথ্য পেয়ে তারা ওই এলাকায় আসামি ধরতে যায়। এসময় গ্রামবাসী তাদের বাধা দেয় এবং এক পর্যায়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তারা গুলি ছুঁড়ে।’
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক নাজমুল হুদাসহ এই তিন জনের রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। তারা থানাকে কিছু না জানিয়েই ওই এলাকায় গিয়েছে। সেখানে অভিযানের বিষয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাউকে কিছু জানায়নি।
আরও পড়ুন: মায়ের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে ধর্ষণের পর শিশু মীমকে হত্যা