রাবিতে আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির পদত্যাগ

রাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার কক্ষের সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনশনের মুখে পদত্যাগ করেছেন বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামান। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
পদত্যাগের বিষয়ে নাসিমা জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি।’ এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
এর আগে, বিভাগের সভাপতির পদ থেকে অধ্যাপক নাসিমা জাহানের পদত্যাগের দাবিতে রবিবার সকাল ১১টার দিকে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন ওই বিভাগের শিক্ষকরা। এর কিছুক্ষণ পরই বিভাগের শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা একই দাবিতে বিভাগের সেমিনার কক্ষের সামনে অনশন শুরু করেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় বিভাগের সব বর্ষের ২০১৭ সালের শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। সভাপতি পরীক্ষা দিতে চাইলেও অন্য ১১ জন শিক্ষক তার অধীনে পরীক্ষা নিতে অস্বীকার করেন। এতে সেশন জটের আশঙ্কায় তারা অনশন করতে বাধ্য হয়েছেন।
উল্লেখ্য, রাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিভাগের অন্য শিক্ষকদের নামে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তোলেন ১১ শিক্ষক। গত ২৭ জুলাই তারা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামানের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এর ভিত্তিতে ৩১ জুলাই তলবি সভা আহ্বান করা হলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপর ৩১ জুলাই অধ্যাপক নাসিমা জামানের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ওই ১১ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন রুখসানা পারভীন। যৌন হয়রানি, অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনেন তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ আগস্ট বিভাগের সভাপতির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ওই ১১ শিক্ষক। পরে ৪ আগস্ট তারা সংবাদ সম্মেলন করে সভাপতি ও শিক্ষিকার করা যৌন হয়রানি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে একাডেমিক সভায় সভাপতির একক সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাইরে ফাঁস করে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, শিক্ষকদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও অশোভন আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়।
৬ আগস্ট ওই ১১ শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামানের পদত্যাগ, শিক্ষক রোখসানা পারভীনের শাস্তি ও একটি তদন্ত কমিটির দাবি করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও ওই কমিটির দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন থেকে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর শিক্ষকরা উপাচার্যের অনুরোধে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও একাডেমিক ও প্ল্যানিং কমিটির সভা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্লাস শেষ হলেও পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়নি।