গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে ওই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মনসুর মানিককে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অভিযোগ দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীর বাবাও তার সঙ্গে ছিলেন।
তাদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের বাইরে ওই ছাত্রীর কয়েকজন সহপাঠী হট্টগোল করছিল। এসময় মনিরুজ্জামান নামের এক শিক্ষক কমনরুম থেকে তাকে অফিস কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাকে প্রায় চার ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রধান শিক্ষক আলী মনসুর মানিক এসে দুটি বেত্রাঘাত করে ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে চলে যেতে বলেন।
শিক্ষার্থীর বাবা রতন মিয়া জানান, ছাত্ররা বিদ্যালয়ের বাইরে হট্টগোল করেছে। সেখানে আমার মেয়ের কোনও দোষ নেই। কিন্তু তাকে চার ঘণ্টা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আটকের পর প্রধান শিক্ষক দুটি বেত্রাঘাত করে ছেড়ে দিয়েছেন। এতে মেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও লজ্জিত হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে তার মেয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আলী মনসুর মানিক বলেন, ‘দশম শ্রেণির দুই ছাত্রের সঙ্গে ওই মেয়ের মন দেওয়া-নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিযোগে দুই ছাত্রের মধ্যে মারামারি হয়। পরে ছাত্রদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে ছাত্রদের শাসন করে নিয়ে যান। এসময় ছাত্রীকে ধমক দেওয়া হয়েছে। বেত্রাঘাতের অভিযোগ ঠিক নয়।’
এ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, তার মেয়ের সঙ্গে সহপাঠীর মন দেওয়া-নেওয়ার অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। তারা দরিদ্র হওয়ায় অপরাধ ঢাকতে একথা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।