না. গঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা: অনিশ্চয়তায় মফিজ-ইলিয়াসের পরিবার

 



নারায়ণগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনাশোকে কাতর মফিজ-ইলিয়াসের পরিবার। ঘিরে ধরেছে অনিশ্চয়তাও। পরিবারের কর্মক্ষম এ দুই সদস্যসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছে গত সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার টিপুরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায়। এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে আরও ছয় জন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা লরির পেছনে একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ভারেরা গ্রামের মফিজ ছিলেন মাছ ব্যবসায়ী। আর ইলিয়াস থাকতেন কাতারে। সোমবার কাতার ফেরার ফ্লাইট ছিল তার। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে যেতে পারেননি। গ্রামের বাড়িতে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফেরার পথে ইলিয়াসসহ (৩৮) তার বড় ভাই মো. মফিজ (৪৭), ছোট বোন মিনুয়ারা (৫০) ও ছেলে ইনান (৮) সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এতে আহত হন ইলিয়াসের ছোট ভাই জাহাঙ্গীর (২৮) ও ছেলে রাজু (২০)। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরিবারের চার সদস্যের লাশ নিয়ে আসার সময় তাদেরও বাড়িতে আনা হয়। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে জাহাঙ্গীরকে। ডাক্তাররা বলছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্বামী ও সন্তান হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন ইলিয়াসের স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি অসহায়, আমার কেউ নেই। সব হারিয়ে ফেলেছি। আমরা কীভাবে চলবো?’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান তালুকদার বলেন, ‘খেটে খাওয়া পরিবারের সন্তান মফিজ ও ইলিয়াস। বেশ কয়েক বছর আগে তাদের মা-বাবা মারা গেছেন। তারা পাঁচ ভাই ও তিন বোন। এর মধ্যে কয়েক বছর আগে সবার বড় ফুল মিয়া ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ফুল মিয়ার পরের ভাই মফিজ। তিনি মা-বাবা ও বড় ভাইহারা ভাইবোনদের দেখাশুনা করতেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাছ বেচে পরিবার চালাতেন। পরের ভাই ইলিয়াস।’

তিনি বলেন, ‘পরিবারটি আজ নিঃস্ব। নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক।’

ইলিয়াসের সন্তান ও তিন ভাইবোনকে একই সঙ্গে দাফন করা হয়েছে। তাদের পরিবারের এখন একমাত্র আশার আলো ছোট ভাই রিকশা চালক ইউনুস।