ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ: ২৬ নেতাকর্মীকে কুমেক থেকে বহিষ্কার

২৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের আদেশআধিপত্য বিস্তার নিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে সংগঠনটির ২৬ নেতাকর্মীকে একাডেমিক কার্যক্রম ও ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ওই ২৬ শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভাপতি মো. মহসিন উজ জামান চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যক্ষ জানান, ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিলসহ ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং একইসঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে ২৬ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২১ জন কুমেক ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী আবদুল হান্নানের অনুসারী। বাকি পাঁচ শিক্ষার্থী কুমেক ছাত্রলীগের আরেক সাবেক সভাপতি ও অষ্টম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান পলাশের অনুসারী।
সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিন জনকে তিন বছরের জন্য, ৯ জনকে দুই বছরের জন্য এবং ১৪ জনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া, আরও ১৮ জনকে সতর্ক করা হয়েছে।
তিন বছরের জন্য বহিষ্কৃতরা হলেন— তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাওয়াত আররাজ, পঞ্চম বর্ষের হাসিবুল হক ওরফে অর্ণব ও একই বর্ষের শেখ আসিফ মাহমুদ।
দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত ৯ জন হলেন— পঞ্চম বর্ষের মোহাম্মদ ইফতেখার হাসান, কাজী জুয়েল, মো. রাব্বী হোসেন, পঞ্চম বর্ষের (পুরোনো) মো. রিয়াদ হোসেন, পলাশ সরকার, দ্বিতীয় বর্ষের মো. ফয়সাল আমিন, পিয়াল দেব চৌধুরী, নিতাই চন্দ্র সূত্রধর ও জয়দীপ চৌধুরী।
এক বছরের জন্য বহিষ্কৃতরা হলেন— পঞ্চম বর্ষের দীপ্ত দত্ত, স্বপন কান্তি দাশ, চতুর্থ বর্ষের সাখাওয়াত হোসেন, পঞ্চম বর্ষের সাব্বির মাহমুদ, আরিফুল ইসলাম, তৃতীয় বর্ষের শাহ মুহাম্মদ নাজমুচ সাকিব, দ্বিতীয় বর্ষের মোহাম্মদ ইয়াহিয়া মাসুদ, তৃতীয় বর্ষের দেবজিৎ ঘোষ, চতুর্থ বর্ষের সৌমিত্র আচার্য্য, পঞ্চম বর্ষের মো. মাহির হোসেন, তৃতীয় বর্ষের মো. রায়হানুজ্জামান, মাশরুখ আরাফাত রিসান, পঞ্চম বর্ষের তানভীর জামান ও মো. মিজানুর রহমান।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে ডা. শাহ আলম বীর উত্তম ছাত্রাবাস ও শেখ রাসেল ছাত্রাবাসেও।
কুমেক অধ্যক্ষ মো. মহসিন উজ জামান চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের চাপ মোকাবিলা করেই এই সাজা দেওয়া হয়েছে। অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না— এটা সবাইকে বুঝতে হবে। এখানে আমি কোনও পক্ষের না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, এ বছরের ৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন।