এইচএসসির পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেওয়ার বিনিময়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠির বিনয়কাঠি শেরে বাংলা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র নিতে গেলে কোচিং ফি, ক্লাস প্রতি অনুপস্থিত ফি ও প্রবেশপত্র ফি বাবদ এ টাকা দাবি করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শনিবার দুপুরে কলেজে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এক পর্যায়ে কলেজ পরিচালনা কমিটির এক সদস্যের ওপর চড়াও হয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। অবস্থা বেগতিক দেখে কলেজের অধ্যক্ষ নিজাম হায়দার দ্রুত কলেজে ক্যম্পাস ত্যাগ করেন এবং প্রবেশপত্র বিতরণ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেরে বাংলা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজ থেকে এবছর ২৩১ জন এইচএসসি পরীক্ষা দিবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ সবার কাছ থেকে অতিরিক্ত এক হাজার থেকে আট হাজার টাকা আদায় করছে। এই টাকা না দিলে পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে না। এর মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্র খরচ বাবদ সাতশ’ টাকা এবং প্রতি ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে একশত টাকা হারে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
পলাশ শর্মা নামের এক পরীক্ষার্থীকে ৮৩টি ক্লাসে অনুপস্থিত দেখিয়ে তার কাছে ৮ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা দাবি করছে। টাকা না দিলে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না বলে কলেজের শিক্ষকরা ওই শিক্ষার্থীকে জানিয়ে দিয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেদওয়ান তালুকদার, মো. রোহান, মো. নাঈম, তাসমীন আক্তার, মার্জিয়া আক্তারসহ আরও অনেকে।
এ ব্যাপারে জানার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ নিজাম হায়দারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে কলেজের গর্ভনিং বোর্ডের সদস্য আসাদুজ্জামান শহীদ খান বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত কলেজের উপস্থিত করার জন্যই আমরা জরিমানার ব্যবস্থা করেছি। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। আর পড়ালেখার মানও ভাল হয়েছে। যারা নিয়মিত কলেজে আসে নাই, তাদেরই কেবল জরিমানা করা হয়েছে। বিগত দিনে যেভাবে এ টাকা নেওয়া হয়েছে, এখনও সেই একই ভাবে সেই টাকা নেওয়া হচ্ছে।’
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেব।’
এক পর্যায়ে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, পূর্ব নির্ধারিত এসব ফি নেওয়া বন্ধ করে ফেরত দেওয়া হবে।