খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক মনোনয়ন পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া অন্য নেতারাও তাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং নির্বাচনের মাঠে দৃঢ় অবস্থানে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে।
বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন মহানগর বিএনপি সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইমলাম মঞ্জু। এরপর মঞ্জুকে ঘিরে তার সমর্থকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তারা মনার পক্ষে নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
জানা যায়, মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন ৩ নেতা। মনোনয়ন পেয়েছেন মঞ্জু। এরপর বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়া অন্য ২ নেতাই নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাতে বিএনপির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কেন্দ্র মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন না পাওয়া বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে প্রধান করেই ১০১ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।
এ ব্যাপারে খুলনা সিটির বর্তমান মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘আমি জাতীয়তাবাদী দলের মানুষ। দলের হয়ে দায়িত্ব পালন করবো। নির্বাচনের মাঠে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবো।’
খুলনা জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আমি মেয়র প্রার্থী হব। দল মনোনয়ন না দেওয়ার সমর্থকরা কষ্ট পেয়েছে। তারপর সমর্থকরা নির্বাচন কার্যালয় থেকে আমার নামে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আমি ক্ষুব্ধ সমর্থকদের নিয়ে আলোচনা করে শান্ত করব এবং মনোনয়নপত্র জমা দেব না। দলের ঐক্যের স্বার্থেই আমি মঞ্জুর পক্ষে অবস্থান নিয়ে কাজ করবো।’
এ ব্যাপারে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নগরবাসীকে কোনও অভিযোগ করার সুযোগ তিনি দিতে চাইবেন না। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিএনপি থেকে যারা মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন, তারা সবাই আমার পাশেই আছেন। তাদের সুপারিশের কারণেই আমি শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি। আমি হচ্ছি এই নির্বাচনের পরিচালক এবং বিএনপির সব নেতার্কর্মী হচ্ছে এই নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী।’
এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেকসহ নৌকা পাওয়ার দৌড়ে তালিকায় ছিল ১০ জনের নাম। খালেক নৌকা পাওয়া পর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যরা কেউই নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক জানান, তিনি আবারও নির্বাচিত হয়ে সকলের সহযোগিতায় খুলনাকে একটি উন্নত, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করবেন। কেসিসি’র নিজস্ব আয়ের উৎস সৃষ্টি করবেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি এখনই নেতাকর্মীদের উল্লসিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া খুলনা সদর থানার সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খালেক ভাইকে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আমিই প্রথম তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি। নির্বাচনে মিলিমিশে কাজ করবো।’
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান পপলু বলেন, ‘খালেক ভাই মনোনয়ন পাওয়ায় আমরা সবাই খুবই খুশি হয়েছি। আমি আগেই বলেছিলাম, খালেক ভাই নির্বাচন করলে আমি নির্বাচন করবো না। যুবলীগ খুলনায় আনন্দ মিছিল করেছে। খালেক ভাই নির্বাচিত হলে খুলনার উন্নয়নে কাজ করবেন।’
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি (আনারস) ১ লাখ ৮১ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছিলেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮ ভোট। ওই নির্বাচনে ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬ জন। আসন্ন নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন এবং নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।