মানিকগঞ্জে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে গেছে নির্মাণাধীন সেতু

কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে যাওয়া সেতুমানিকগঞ্জের হরিরামপুরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে নির্মাণাধীন সেতু। এক বছরেও সেতুটি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় আট গ্রামবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

গত বর্ষায় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার হারুকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদপুর এলাকায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওই ব্রিজটি। ঠিকাদারের দাবি, ওই ব্রিজের ডিজাইনে ত্রুটি ছিল। অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলছেন, ডিজাইনে ত্রুটি থাকার কোনও সুযোগ নেই। সারাদেশে একই ডিজাইনে ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। যদি ত্রুটি থাকতো তাহলে একযোগে সব ব্রিজই ভেঙে পড়তো। ঠিকাদারের দাবির কোনও ভিত্তি নেই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ রাস্তায় কমবেশি ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু/কালভার্ট (২০১৬-১৭) কর্মসূচির আওতায় ৬০ ফুট দীর্ঘ এবং ২৪ ফুট উঁচু এই পাকা ব্রিজ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা। আর এই ব্রিজটি নির্মাণ করছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ।

হারুকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চুন্নু জানান, এই ব্রিজটি নির্মাণে পদ্মা নদীপাড়ের হারুকান্দি, কাজিরটেক, মধুমালী, ভাটিবয়রা, মির্জানগর, নারানকান্দি, গৌরবপুর ও জালসা গ্রামের জনসাধারণ খুব খুশি হয়েছিল। কিন্তু ব্রিজটি সম্পন্ন হওয়ার আগেই ধ্সে যাওয়ায় তাদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। ওই আট গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরসহ এর আশপাশের এলাকা হয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে খুব সমস্যা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ওই ব্রিজটির কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন হলে পদ্মা পাড়ের ওই আটটি গ্রামে উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের পরিবহন এবং যাত্রী পরিবহনে সুবিধা হতো। এই ব্রিজের ওপর দিয়ে ছোট-বড় নানা ধরনের গাড়ি চলতে পারতো। কিন্তু ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ওই গ্রামগুলোর মানুষকে পায়ে হেঁটে অথবা সাইকেল কিংবা মোটরসাইকেল করে অন্যপথে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।

দানেস্তপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলী, দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের কৃষক ছালাম তালুকদার, হারুকান্দি গ্রামের দিনমজুর শেখ জবেদ আলীসহ ওই এলাকার অনেকেই বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় তারা খুবই কষ্টে আছেন। তারা ভাঙা ব্রিজটি সরিয়ে সেখানে একটি ব্রিজ পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্রিজের ডিজাইনে ত্রুটি ছিল। তিনি যথাযথভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করেছেন। ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরুর দিন সেখানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও জানান, বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজটি ধ্সে গেছে। এতে তার কিছুই করার নেই, বরং ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার চূড়ান্ত বিল আটকে দিয়েছেন। তিনি মোট বিলের ৩০ শতাংশ পেয়েছেন। বাকি টাকা পাওয়ার জন্য তিনি আইনি পদক্ষেপে যাবেন।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম শোভন বলেন, ‘ব্রিজ নির্মাণের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল ২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিল। কিন্তু ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু করতে পারেননি। বর্ষা আসন্ন থাকায় তাকে ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে ২০ জুলাই পত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে ভরা বর্ষা মৌসুমে ৩১ জুলাই ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং ১৯ আগস্ট ব্রিজের ঢালাই দেন। এর কয়েকদিন পর ব্রিজটি ধ্সে যায়। এ কারণে ঠিকাদারের কাজের মোট বিলের ৭০ শতাংশ এখনও আটকা আছে।’

তিনি বলেন, ব্রিজটি ধসে যাওয়ার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এর ফলে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর অধিদফতরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু দাউদের নেতৃত্বে আরও দুই প্রকৌশলী ওই ভাঙা ব্রিজটি পরিদর্শন করেছেন। তবে এখনও ব্রিজটি সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণের কোনও নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।