শেরপুরে আ . লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১০

শেরপুরে-আওয়ামীলীগের-দুগ্রুপের-সংঘষ-থামাতে-পুলিশশেরপুর জেলা শহরের তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দীকিয়া মাদ্রাসার ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ জুলাই) দুপুরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ওই ঘটনায় তেরাবাজার সড়কটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অর্ধশতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

আহতদের মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল সমাপ্ত নখরেক (২৭), যুবলীগ কর্মী হাসান (২৪) ও গাজীরখামার এলাকার মনিরকে (২৫) জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ১১টায় তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। তবে ওই সভা শুরু হয় দুপুর ১ টার দিকে। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াদুদ অদুর সভাপতিত্বে ওই সভায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর রুমান এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানুকে অতিথি করা হয়। প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরিচালনায় সভা শুরুর আগেই আওয়ামী লীগের হুইপ আতিক বলয় সমর্থিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মী মাদ্রাসার বাইরে ও ভিতরে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে রুমান-ছানু বলয়ের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীও মাদ্রাসা মাঠে আসেন। সংঘর্ষ পরিস্থিতির আশঙ্কায় মাদ্রাসায় সতর্ক অবস্থান নেন পুলিশের শতাধিক সদস্য। এ অবস্থায় সভা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুইপ আতিক বলয় সমর্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার নজরুল ইসলাম, ফখরুল মজিদ খোকন, মিনহাজ উদ্দিন মিনাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উৎপল ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেমসহ কয়েকজন নেতা সভায় উপস্থিত হয়ে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সকলের মতামত নেওয়ার দাবি জানান। এনিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে জোহরের নামাজের জন্য সভার মুলতবি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, নামাজ চলাকালে দু’পক্ষের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। দু’পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নামাজ শেষে সুষ্ঠুভাবে সভার কাজ শুরু করতে মাদ্রাসার সাধারণ পরিষদের সদস্যদের রেখে বহিরাগতদের বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।কিন্তু কে বা কারা আগে বের হবে তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। এরমধ্যে মাদ্রাসা অফিস ঘরের বাইরে বাদানুবাদ ও হাতাহাতিতে জড়ায় দু’পক্ষের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের পাশাপাশি সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন দু’বলয়ের উপস্থিত শীর্ষ নেতারা। পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাকর হলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে সকলকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় তিন পুলিশসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হন।

শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মিনাল অভিযোগ করেন, দু’পক্ষের পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এজন্য তিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের এক ভাইসহ দুই যুবককে দায়ি করেন। অন্যদিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু তার ওই অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘কঠিন কোনও পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে এরকম পরিস্থিতি হতেই পারে।’

ঘটনার বিষয়ে তেরাবাজার মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াদুদ অদু ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘মাদ্রাসার সব কর্মকাণ্ডে যারা এতোদিন সহযোগিতা করে আসছেন, তাদের নিয়েই সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের দ্বারাই এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটলো।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ও ৬২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরে পুলিশ টহলজোরদার করা হয়েছে।