সিদ্ধিরগঞ্জে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত ১০

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা (ছবি- প্রতিনিধি)নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে একদল যুবক। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিমরাইল এলাকায় এই হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী। তবে পুলিশের দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষে হাতাহাতি হয়েছে।

হামলায় আহতদের সবার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে জানা গেছে, আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, মৌচাক, শিমরাইল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছিল শিক্ষার্থীরা। এ সময় এক মোটরসাইকেল আরোহীর কাছে কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চায় কাউসার আহম্মেদ সিয়াম নামে এক শিক্ষার্থী। এতে মোটরসাইকেল আরোহী স্থানীয় যুবলীগ নেতা তোফায়েল আহম্মেদের ভাগ্নে সাকিল কাগপজত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না দেখিয়ে সিয়ামের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনার পরে দুটি মাইক্রোবাস ও একটি ট্রাকে করে লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের লোকজন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে শিক্ষার্থী সিয়ামসহ আরও ১০ জন আহত হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পরিবহন শ্রমিকেরা তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে।

আহত শিক্ষার্থী সাকিবের দাবি, ‘মোটরসাইকেলে বসে ওই লোক ফোন করে ছাত্রলীগ-যুবলীগের লোকজনকে জড়ো করে। তারা লাঠি নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে দৌড়ে চলে যায়।’

এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া বলেন, ‘শুনেছি শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষে হাতাহাতি হয়েছে।’