৬০ মিটার রাস্তা নদীগর্ভে, ১০ হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নদীগর্ভে বিলীন হওয়া রাস্তা (ছবি- প্রতিনিধি)

ফরিদপুর-চরভদ্রাসন সড়কের চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের এমপিডাঙ্গী স্কুল সংলগ্ন ৬০ মিটার অংশ পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এটি গাজিরটেক, হরিরামপুর ইউনিয়নের সঙ্গে চরভদ্রাসন সদরের সংযোগ সড়ক। বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যার পর সড়কটির ৬০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় গাজিরটেক, হরিরামপুর ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফরিদপুর-চরভদ্রাসন সড়কের এমপিডাঙ্গী স্কুল সংলগ্ন ৬০ মিটার অংশ এমনভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, ওই অংশ দিয়ে গাড়ি চলাচল দূরের কথা মানুষের হাঁটাচলাটাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া রাস্তার পাশেই এমপিডাঙ্গী স্কুল থাকায় এর একটি ভবনও যে কোনও সময় নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাদ খান বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড উপজেলার ভাঙন এলাকায় কয়েক ধাপে বালুর বস্তা দিয়ে ডাম্পিং করলেও গত দুই মাসে তীব্র স্রোতের তোড়ে ফাজেলখার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমপিডাঙ্গী স্কুল সংলগ্ন পাকা সড়ক, বালিয়াডাঙ্গীর একটি মসজিদ, কয়েক হাজার গাছপালা, ফসলি জমি ও প্রায় অর্ধ-শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে চরভদ্রাসনে ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ২৯২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু না করা হলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে চরভদ্রাসন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া। এসময় তিনি এমপিডাঙ্গী স্কুলের নদীগর্ভে বিলীনের শঙ্কায় থাকা ভবনটি রক্ষায় ফরিদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহামুদকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পাউবোর নির্বাহী প্রোকৌশলী সুলতান মাহামুদ বলেন, ‘চরভদ্রাসনের ভাঙন প্রতিরোধে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা পেয়েছি। সে অনুযায়ী কয়েক মাস ধরে অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন স্পটে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে পাউবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের নতুন করে বালুর বস্তার ডাম্পিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’