সদর হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের তথ্য মতে, ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের ৩ তারিখ থেকে হাসপাতালে চোখের চিকিৎসকের পদটি শূন্য রয়েছে।এরপর ৩ বছর ৭ মাস পার হলেও মন্ত্রণালয় থেকে আসেননি কোনও চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। প্রতি মাসে সদর হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্ত্যবরত চিকিৎসক ও শূন্য পদ উল্লেখ করে তালিকা পাঠানো হলেও মেলেনি চক্ষু চিকিৎসক।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে টিকিট কাউন্টারে পোস্টার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বর্তমানে এই হাসপাতালে চোখের ডাক্তার নেই। টিকিট কাউন্টার থেকেই তাই ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে কথা হয় ৫৬ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল গফুরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চোখের সমস্যা নিয়ে অনেক দিন ধরে অসুস্থ। সদর হাসপাতালে আসি ডাক্তার দেখাতে। সবাই বললো চোখের কোনও ডাক্তার নেই।’ বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে ডাক্তারের ভিজিট কমপক্ষে ৫০০ টাকা এবং সপ্তাহের একদিন বা দুইদিন ডাক্তার পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।
হালিমা বেগম (৬০) নামের আরেক রোগী জানান, ‘চোখের ডাক্তার দেখাতে গ্রাম থেকে নাতির সঙ্গে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এসেছি। এখন শুনলাম হাসপাতালে চোখের ডাক্তার নাই।’
জেলা সদরের মাটিপাড়া এলাকার বৃদ্ধা সরিফুন বিবি (৬০) বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই হাসপাতালে আসছি। টিকিট কাউন্টারে গেলেই বলে চোখের ডাক্তার নাই। হাসপাতালে সব ডাক্তার আছে তো চোখের ডাক্তার নাই কেন?’
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বরত কম্পাউন্ডার মো. কোরবান হোসেন জানান, ‘প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১’শ রোগী চোখের ডাক্তারের টিকিট চান। হাসপাতালে চোখের ডাক্তার নেই কয়েক বছর ধরে। তাই আমরা চোখের ডাক্তারের টিকিট বিক্রি করি না। রোগীদের জানাতে পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই চোখের ডাক্তার দেখাতে এসে অনেক রোগী ফিরে যান।’
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জানান, ‘২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের ৩ তারিখ থেকে হাসপাতালে চোখের চিকিৎসকের পদটি শূন্য রয়েছে। প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ে শূন্য পদের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়ে থাকে।’
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. স্বপন কুমার কুন্ডু জানান, ‘প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ফরমে সদর হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্ত্যবরত চিকিৎসক ও শূন্য পদ উল্লেখ করে তালিকা পাঠানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে চোখের ডাক্তারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলেই হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আসবে।’
রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন ডা. রহিম বকস জানান, ‘হাসপাতালের শূন্য পদগুলোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহা পরিচালক বরাবর চাহিদা পত্র পাঠানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও সুরাহা পাচ্ছি না। হাসপাতালে অতি দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন।’
আরও পড়ুন- বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে পাঁচ পদ শূন্য