গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৪ জন

শোকের মাতম

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বাস-ট্রাক্টরের সংঘর্ষে নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন- এমদাদুল হক (২৫), স্ত্রী কাকুলী বেগম (২২), তাদের মেয়ে হেনা খাতুন (৫) ও বোন আফরুজা বেগম (৩০)। নিহতদের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চাচিয়া মিরগঞ্জ গ্রামে। এছাড়াও নিহত আরেকজন পুরুষের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে লাশ শনাক্ত করেছেন নিহত এমদাদুল হকের বড় ভাই ইয়াছিন আলী। পরে পুলিশ ইয়াছিন আলীর কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করে। 

এসময় ইয়াছিন আলী বলেন, ‘ভাই এমদাদুল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও বোন ঢাকায় থাকেন। তারা নশরতপুর বাংলাবাজার এলাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ঈদের ছুটিতে তারা বাড়িতে আসেন। শুক্রবার রাতে ঢাকায় ফিরতে গাইবান্ধা থেকে বাসে ওঠেন। এরপর তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। সকালে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তাদের লাশ দেখি।’

নিহত আফরোজার স্বামী শাহীন মিয়া বলেন, ‘অভাব-অনাটনের কারণে স্ত্রী তার ভাই ও ভাবির সঙ্গে ঢাকায় গার্মেন্টেস চাকরি করতেন। চাকরি করে সে যে টাকা পাঠাতো তাতেই কোনরকমে সংসার চলতো। কিন্তু দুর্ঘটনায় একই সঙ্গে চারজন নিহত হলেন। এখন এই পরিবারগুলোর কী হবে, কে নেবে আমাদের দায়িত্ব?’ এই দুর্ঘটনার জন্য চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান তিনি।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আব্দুল হাই নামে এক শ্রমিক জানান, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় তার বাড়ি। নৌকায় করে তিনি গাইবান্ধায় এসে ৯০০ টাকা দিয়ে টিকিট করে বাসে ওঠেন। বাসটি রাত ৯টার দিকে ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রী তোলার কারণে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাস ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মধ্যেই চালক দ্রুতগতিতে বাস চালায়। এরপর হঠাৎ করেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক্টরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বাসের। এরপর আর কিছুই মনে নেই তার। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে জ্ঞান ফেরার পর দুর্ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পারেন বলেও জানান তিনি।

এই সেই বাস

এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কিশনো কুমার নিহতদের পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘নিহতদের চারজন একই পরিবারের। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ, একজন শিশু ও দুই নারী রয়েছে। পরিচয় শনাক্তের পর নিহতদের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত অপরজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বাস-ট্রাক্টরের চালক ও হেলপার পালিয়ে থাকায় তাদের আটক করা যায়নি।’

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এসময় জেলা প্রশাসন থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহতদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’  

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে সাউদিয়া পরিবহনের একটি বাস গাইবান্ধা থেকে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরছিল। বাসটি রাইস মিল এলাকায় পৌঁছালে সড়কে দাঁড়ানো একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক শিশুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হতাহতদের উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে দুইজন পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও তিনজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।