বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং-এ পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঁঞা এসব তথ্য জানান।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর রানীরহাটগামী সড়ক থেকে জেএমবির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় শীর্ষস্থানীয় পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। বগুড়া ডিবি পুলিশ ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ইন্টেলিজেন্স শাখার সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করে। তাদের কাছে দুটি বিদেশি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি, ৩টি অত্যাধুনিক বার্মিজ চাকু ও একজোড়া হ্যান্ডকাফ পাওয়া গেছে।
গ্রেফতার জঙ্গিরা হলেন- জেএমবির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ইছাবার (সামরিক) এবং আছির (জেলবন্দিদের খোঁজ ও পরিবারকে সহযোগিতা) শাখা প্রধান জামালপুর জেলা সদরের বড়ইকুড়া গ্রামের মৃত লোকমান আলীর ছেলে শহিদুল্লাহ ওরফে মাসুম ওরফে গোপাল ওরফে ইয়ামিন ওরফে নাদিদ (৪৬), রাজশাহী বিভাগের ইছাবা প্রধান ও রাজশাহী আরএমপির বেলপুকুরিয়া উপজেলার ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামের আকবর আলীর ছেলে বুলবুল ওরফে সোহাগ (৩২), ইছাবা সদস্য একই এলাকার একরামুল হকের ছেলে মাসুদ রানা (৩১), ইছাবা সদস্য রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের উৎপল হাজরার ছেলে নবমুসলিম আতিকুর রহমান ওরফে সৈকত ওরফে সামিত (৩৩) এবং ইছাবা সদস্য একই উপজেলার আশকোরপুরের মৃত আবু তালেবের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে দর্জি মিজান (৩৫)।
প্রেস ব্রিফিং-এ পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঁঞা জানান, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া ডিবি পুলিশ ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ইন্টেলিজেন্স শাখার সদস্যরা মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর রানীরহাটগামী পাকা রাস্তার মোড়ে সুলতানের দোকানের সামনে থেকে উল্লিখিত শীর্ষস্থানীয় পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করে। জঙ্গি নাদিদের কোমড় থেকে ৬ রাউন্ড গুলিভর্তি ৭.৬৫ ক্যালিবারের একটি বিদেশি পিস্তল, সোহাগের কাছে ৪ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি ৯ এমএম পিস্তল ও একজোড়া হ্যান্ডকাফ, মাসুদ রানার কাছে একটি বার্মিজ চাকু, নবমুসলিম আতিকুরের কাছে একটি বার্মিজ চাকু, দর্জি মিজানের কাছ থেকে একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়।’
পুলিশ সুপার বলেন, ‘গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দুই দিন আগে পুরাতন জেএমবির বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক ও সুরা সদস্য খোরশেদ আলম ওরফে মাস্টার ওরফে সামিল ওরফে সাগর ওরফে আতিক ওরফে উদয় তাদের গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনায় যেতে বলে। পাঁচ জঙ্গি সেখানে গেলে উদয়সহ পুরাতন জেএমবির মিডিয়া বিভাগের প্রধান ও সুরা সদস্য সাদেকুল ইসলাম ওরফে ওমায়ের ওরফে হাসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। গাজীপুরের ওই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের জেএমবির বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংক্রান্তে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া জঙ্গি প্রধান উদয় সংগঠনের সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ওইসব অস্ত্র, গুলি, চাকু সরবরাহ করে।’
পুলিশ সুপার আরও জানান, ‘জঙ্গি সোহাগ, মাসুদ রানা, সম্প্রতি মুসলিম হওয়া আতিকুর রহমান এবং দর্জি মিজান গত বছর রাজশাহীর মতিহার থানাধীন রহমান জুট মিলে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ডাকাতি মামলার আসামি। তাদের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মামলা রয়েছে। সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। রাজশাহীর আরএমপির ডিবি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে।
তিনি জানান, গ্রেফতার পাঁচ জঙ্গির মধ্যে আতিকুর ২০১০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে বিএসএস (অনার্স), মাসুদ রানা ২০১৩ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে মাস্টার্স পাস করেছেন। সোহাগ ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। দর্জি মিজান নিরক্ষর ও নাদিদ ১৯৯২ সালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার নবারণ বিদ্যা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছেন।
শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গিদের গ্রেফতার করায় বড় ধরনের নাশকতা থেকে রেহাই পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, ডিবি পুলিশ গ্রেফতার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বগুড়ার শেরপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।
আরও পড়ুন- অস্ত্রসহ জেএমবির রংপুর ও রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ের পাঁচ জঙ্গি গ্রেফতার