মেয়র আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলার তারিখ ছিল রবিবার। ঢাকার বিশেষ জজ মিজানুর রহমান খানের আদালত দুদকের দায়ের করা মামলায় মেয়রের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতে কেউ টের পায়নি আনিছুর রহমানের পরিবর্তে হাজিরা দিচ্ছেন নূরে আলম মোল্লা। ফলে জেলহাজতেও যেতে হয় তাকেই।
মেয়রের ছোট ভাই শ্রীপুরের মাওনা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘শনিবার রাতে দক্ষিণ এশিয়ার পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক এক সম্মেলনে যোগ দিতে সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়ায় গেছেন মেয়র আনিছুর রহমান। ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন।’ শ্রীপুর পৌরসভার সচিব বদরুজ্জামান বাদল জানান, মেয়র আনিছুর রহমান রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার একটি ফ্লাইটে ৯ দিনের সফরে ইন্দোনেশিয়া গেছেন।
শ্রীপুর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, রবিবার শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান চার মামলায় এবং পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষক আব্দুল মান্নান দুই মামলায় আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমানের মাধ্যমে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মেয়র আনিছুর রহমানকে এক মামলায় জামিন দেন। অন্য তিন মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এছাড়া পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষক আব্দুল মান্নানের দুটি মামলাতেই জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। আব্দুল মান্নান তার মামলায় নিজেই আদালতে হাজির ছিলেন। তবে মেয়র আনিছুর রহমানের পক্ষে আদালতে হাজিরা দেন নূরে আলম মোল্লা।
এ বিষয়ে আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘মামলাগুলোর বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন আব্দুল মান্নান। হাজিরার দিন নূরে আলম মোল্লা আদালতে এলে আমি যাচাই করার চেষ্টা করিনি উনি আসলে মেয়র কিনা। তিনি নাম ও পিতার নাম যা বলেছেন তা চার্জশিটের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় জামিনের আবেদন করি।’
এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আদালতে হাজির করা হলে নূরে আলম মোল্লা বলেন, মেয়রই তাকে প্রক্সি দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। তবে এ বিষয়ে মেয়রের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান ও পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌরসভার রসিদের মাধ্যমে আদায় করা ৪৩ লাখ ৭৬ হাজার ১০৭ টাকা মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পৌর তহবিলে জমা দেননি। তারা সে টাকা আত্মসাৎ করেছেন অভিযোগ করে ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম শ্রীপুর থানায় এ সংক্রান্ত মামলা করেন। ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৬ সালের ১২ জুলাই বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আরেক মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১০ সালে শ্রীপুর পৌরসভার বেশ কয়েকটি হাট-বাজার থেকে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ২০০ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুদকের একই কর্মকর্তা শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।
আরও দুটি মামলায়ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে শ্রীপুর থানায় দুদক দুটি মামলা করে। থানায় মামলা হলেও দুদকের মামলাগুলো দুদক কর্মকর্তারা তদন্ত করে থাকেন বলে জানান ওসি।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে শ্রীপুর পৌরসসভা গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আনিছুর রহমান টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হন।
আরও পড়ুন- যে কারণে বাংলাবান্ধা দিয়ে চার দেশীয় আমদানি-রফতানি বন্ধ