বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, মাগুরায় মোট ৫০ জন ডিলারকে বীজ বিক্রির জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা কেউই উচ্চমূল্যের কারণে বিএডিসির বীজ তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এ বছর বিএডিসির নির্ধারিত ধানের বীজের মূল্য ৫০ টাকা কেজি ধরা হয়েছে, যা বাইরে বিক্রি হচ্ছে ১৭ টাকায়। একইভাবে গমের বীজের মূল্য ধরা হয়েছে ৪৬ টাকা, যার মূল্য বাইরে ২০ টাকা। এ অবস্থায় কৃষক বাধ্য হবেন কম মূল্যে বাইরে থেকে নিম্নমানের বীজ কিনতে, যা ফসল উৎপাদনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। অন্যদিকে বিএডিসির কোটি টাকার বীজ অবিক্রিত অবস্থায় গুদামেই নষ্ট হবে।
মাগুরা শহরের ঢাকা রোড এলাকার বীজ ডিলার মুরাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উচ্চমূল্যের কারণে আমি এ বছর বীজ তুলিনি। যদি বীজের মূল্য না কমানো হয় তাহলে কোনও ডিলারই এবার বিএডিসির কাছ থেকে বীজ নেবেন বলে মনে হয় না।’
অপর ডিলার শহীদুজ্জামান বলেন, ‘গত বছর বীজের মূল্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বেশি ছিল। কিন্তু এ বছর মূল্যবৃদ্ধির কোনও কারণ নেই। এত দামে কৃষক বীজ কিনবেন না। বীজ দোকানেই পড়ে থাকবে।’
সদর উপজেলার জাগলা গ্রামের কৃষক নেয়ামত শেখ বলেন, ‘ডিলারদের কাছে বীজ নেই। তাই আমি বাধ্য হচ্ছি লাইসেন্সবিহীন দোকান থেকে বীজ সংগ্রহ করতে। তবে এসব বীজের উপর আস্থা রাখতে পারছি না। এসব বীজ ফসল উৎপাদনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।’
বেসরকারি সংস্থা ‘পল্লী-প্রকৃতি’র নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম পিন্টু বলেন, ‘বীজ ভালো না হলে ভালো ফসল পাওয়া কঠিন। ভালো ফসল পেতে হলে অবশ্যই সরকারকে ভালো বীজ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত ভর্তুকি দিয়ে হলেও বীজের দাম কমানো।’
মাগুরার বিএডিসি কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বীজের দাম মোটেও বেশি নয়। আর এই দাম আমরা নির্ধারণ করি না। তাই আমাদের কাছে দাম কমানোর দাবি করে লাভ নেই।’