উপজেলা কৃষি অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ধানের জমিতে আফ্রিকান ধঞ্চের গাছ রোপণের মাধ্যমে জীবন্ত পার্চিং করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে এ বছরে হাকিমপুর উপজেলায় চার হাজার ২০ হেক্টর আমন ধানের জমিতে জীবন্ত পার্চিং পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদ করা হচ্ছে। এই জীবন্ত পার্চিং পদ্ধতিতে ধঞ্চে গাছগুলোতে পাখি বসে মাজরা পোকা ও পাতামোড়ানো পোকার মথকে খেয়ে ফেলে।এর ফলে ওই পোকাদুটির বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।এতে কৃষক কিটনাশক প্রয়োগ না করেও মাজরা পোকা ও পাতামোড়ানো পোকা দমন করতে পারবে।
জালালপুর ইউনিয়নের কৃষক সুজন মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ পদ্ধতিতে ধান চাষের পর থেকে আমরা কিটনাশক ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছি। প্রয়োজনে কম কিটনাশক ব্যবহার করে ধান উৎপাদন করতে পারছি। আমরা এ পদ্ধতিতে ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছি।’
স্থানীয় আরেক কৃষক মিনাজুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লাইভ পার্চিং পদ্ধতিতে ধান চাষা করে আমাদের উৎপাদনের খরচও কমছে। এছাড়াও এ পদ্ধতিতে ধান চাষের ফলে ধানের ফলনও ভালো পাওয়া যাচ্ছে এবং কৃষকরা লাভবানও হচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে এ পদ্ধতিতে ধানের চাষের দিকে।’
কৃষক মনোয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে জমির পরিমাণ বেড়েছে। এবার ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি।’
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা নাজনীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বছরে উপজেলার চার হাজার হেক্টর জমিতে লাইভ পার্চিং পদ্ধতিতে রোপা আমন ধানের চাষাবাদ করে লাভজনক হওয়ায় এ বছরে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ২০ হেক্টরে। এছাড়াও কিটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশের উপরে যে বিরূপ প্রভাব পড়ে সেটাও কমে আসবে। কম কিটনাশক ব্যবহার করে ভালো ধান উৎপাদন সম্ভব হবে।’