মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে নারীসহ ১৫ রোহিঙ্গা উদ্ধার

উদ্ধার করা কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী

সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে ১৫ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে সাতজন নারী রয়েছেন। তারা সবাই উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। ২০১৮ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।

সোমবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে টেকনাফের শামলাপুরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, সোমবার ভোরে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবির থেকে বের হয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়া প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন খবরে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল টেকনাফের শামলাপুরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালান। এ সময় সাতজন নারীসহ ১৫ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। তারা সবাই উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার লক্ষ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

উদ্ধার করা ১৫ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ হলেন—উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা শিবিরের রাবিয়া বেগম (১৮), একই শিবিরের ফারবিন আক্তার (১৯), থ্যাংখালী ক্যাম্পের রেহেনা আক্তার (১৮), কুতুপালং শিবিরের আনোয়ারা বেগম (১৫), বালুখালী শিবিরের নূর কলিমা (২৪), সেতারা বেগম (২৫), জাহেদা বেগম (২২), মোহাম্মদ সালাম (৪০), কেফায়েত উল্লাহ (৩২), টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের বেলাল উদ্দিন (৩০), মোহাম্মদ সোহেল (২২), শাহ নবী (৩০), মোহাম্মদ আলম (২৩), ইমান হোসেন (৩৩) ও হাবিজুর রহমান (২৪)। তাদের আত্মীয়স্বজনরা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় রয়েছে। সেই সুবাদে তারা সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলে পুলিশ ধারণা করছে।

জানতে চাইলে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দালালদের প্রলোভনে পড়ে উপকূল দিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ১৫ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন নারীও রয়েছেন। তারা সবাই উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।’ 

উদ্ধার করা রোহিঙ্গারা দাবি করেন, তারা সাগরপথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন না। তবে রোহিঙ্গা শিবির থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় থাকা আত্মীয়স্বজনের ঘরে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তাদের ধরা হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘সাগরপথে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে ১৫ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত বছর ২৫ আগস্টের পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেন। বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছেন।